স্বাধীনতার স্বপ্ন— “বাংলার মানুষ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জীবন উদযাপন করবে, আধিপত্য ও দারিদ্র্যের নয়।”
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচন-পূর্ববর্তী প্রতিজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ এই দুয়ের সমন্বয়।
প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়তা ও অগ্রাধিকারভিত্তিক উদ্যোগে এই দুই কর্মসূচি সফলভাবে শুরু হয়েছে, যা ইতোমধ্যে সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে।
আমি মনে করি, যেহেতু পূর্ববর্তী বাজেট ও বরাদ্দ চলমান কৃষি ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছে, তারই সমন্বয়ে সরকার এই কর্মসূচির সম্প্রসারণ ও বাস্তবায়ন করেছে। এই প্রজ্ঞা বিরল ও সময়োপযোগী। বলা বাহুল্য, যেহেতু এই কর্মসূচি পূর্ববর্তী বাজেট বরাদ্দের সম্পূরক এবং নতুন ঋণ অথবা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন আর্থিক সমন্বয়ের আওতাভুক্ত নয়, সেহেতু মুদ্রাস্ফীতির দ্বারা এই কর্মসূচি আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই।
বাংলাদেশের আর্থিক বছর প্রায় শেষ পর্যায়ে, এবং আমার বিশ্বাস, আগামী অর্থবছরে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই দুই কর্মসূচিকে যথাযথ অনুমোদনের মাধ্যমে বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করবে এবং সম্পূরক বরাদ্দ প্রদান করবে। সুতরাং ভবিষ্যৎ বরাদ্দ মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এবং এর মাধ্যমে জনগণের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধিত হবে।
কৃষক ও প্রান্তিক মানুষের জীবন রক্ষা ও মানোন্নয়ন সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে। কৃষি ও সাধারণ জনগণ দেশের জিডিপি নিয়ন্ত্রণের মূল চালিকাশক্তি। মূল্যস্ফীতি হ্রাস, গড় আয় বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ, দেশীয় চাহিদা পূরণ, রিজার্ভ বৃদ্ধি, আমদানি-নির্ভরতা হ্রাস, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সরবরাহ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আমি বিশ্বাস করি, বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং একটি স্বনির্ভর দেশ গঠনে সহায়ক হবে।
১৯৭১ সালে এক যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ এবং ১৯৭৭ সালে এক অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে, ২০২৪-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নই হতে পারে মূল চালিকা শক্তি, যা বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে। এর স্থিতিশীলতা আগামীর দিনগুলোকে আরও শক্তিশালী করবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার উন্নয়নের পথে যাত্রা শুরু করেছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিদিনের শৃঙ্খলা ও কর্মপরিকল্পনা অসাধারণ গতিতে এগিয়ে চলেছে। তাঁর এই একাগ্রতা ও দৃঢ়তার পক্ষে সবার সমর্থন ও সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। তাঁর এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে আমাদের সম্মিলিত প্রয়াস জোরদার করতে হবে এবং তাঁর হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।
আমি বিশ্বাস করি, আপসহীন দুই পিতামাতার একমাত্র জীবিত সন্তান হিসেবে তিনি তাঁর দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবেন। তিনি আজ আমাদের একজন—এই দেশ ও জনগণই তাঁর একমাত্র পরিবার। ১৯৮১ সালে দুর্বৃত্তদের হাতে মর্মান্তিকভাবে নিহত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বীর উত্তম এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেন একাকিত্বে না পড়েন—সেজন্য সকল বাংলাদেশি নাগরিকের কর্তব্য তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রদর্শন করা। তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্তকে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়া জরুরি।
অনেক প্রাণের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব সবার। তাই ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি-পরবর্তী নেতৃত্বকে সাধুবাদ জানিয়ে শুরু হোক অগ্রগতি ও শান্তির নতুন পথচলা।
কৃষি, নারী উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং কুটির শিল্পের উন্নয়ন বাংলাদেশের অগ্রগতির মূল ভিত্তি। আপামর জনসাধারণ ও উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে সরকার মনোনিবেশ করেছে, যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ইতিবাচক দিক। এই লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব ও কর্তব্য। শুধুমাত্র সরকারের পদক্ষেপকে সমর্থন করেই এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। বিতর্ক থাকবে, তবে তা যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত না হয়, তবেই মঙ্গল বয়ে আনবে।
বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে এবং সরকারের কর্মদক্ষতাকে শক্তিশালী করে জাতি এগিয়ে যাবে। তবেই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি আসবে, দেশ হবে গর্বিত, আর ধ্বনিত হবে— “সবার আগে বাংলাদেশ”।
লেখক : অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকার

