১৯৮১ চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস—ভয়াল সেই রাত। ঘাতকের নির্মম বুলেট কেড়ে নিয়েছিল এক দেশপ্রেমিক বীরকে, কবর হয়েছিল আধুনিক বাংলাদেশের উন্নয়ন, সামগ্রিক অর্থনীতি এবং হতাশায় ডুবিয়ে কলঙ্কিত করেছিল পুরো জাতিকে, যা বিশ্ব হতবাক দৃষ্টিতে দেখেছে। পরবর্তীতে এক বিভ্রান্ত জাতি হারিয়ে ফেলেছিল মৌলিক ভিত্তির উপর গড়ে ওঠা দেশ আর নিয়ত ভঙ্গুর অর্থনীতি। কখনও মেলে ওঠা কেন্দ্রীয় রিজার্ভ, আবার কখনও বা হারিয়ে যাওয়ার ভীতি। মূল্যস্ফীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম—এই নিয়ে চলছিল জগৎ আর পরিবেশ। বিগত মাস আর বছরগুলোর অতীত আর গল্প যেন এক ভয়াবহ সংঘাতের সমন্বয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
অবশেষে ১২ই ফেব্রুয়ারি যেন এক নতুন অধ্যায় নিয়ে এলো, নিশ্চিত হলাম ১৯৮১-এর অপূর্ণ স্বপ্নের বাস্তবায়ন এবার শুরু ও সম্পন্ন হবে।
১২ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী অগ্রযাত্রায় যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা যথার্থ ও সময়কেন্দ্রিক। সামগ্রিক অর্থনীতির উন্নয়ন এক প্রহরে যেমন অসম্ভব, ঠিক তেমনি মৌলিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে পুরোনো বা কনভেনশনাল রীতির প্রচলন ও বাস্তবায়ন একান্ত প্রয়োজন।
দেশীয় প্রযুক্তিতে কৃষির প্রসার, নারীর ক্ষমতায়ন, প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ এবং জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিজয়ী নেতৃত্ব একইভাবে তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করছেন এবং ১৯৮১-এর অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণের জন্য সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশের বর্তমান জীবনযাত্রার মান নির্ধারণে ফ্যামিলি কার্ড ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা এক অগ্রগামী ভূমিকা রাখবে, যা মৌলিক চাহিদা পূরণের পর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় সমাজের সকলকে দ্রুত এক সারিতে নিয়ে আসবে। আমি বিশ্বাস করি, এই অগ্রগামী ফ্যামিলি কার্ডের বিনিময়ে সকল মানুষ জীবনের গতি পাবেন এবং দেশ গড়ার কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করবেন।
এই সমন্বয় এক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এবং এর সমালোচনা যারা করেছেন তাঁদের বিনীত অনুরোধ করি—ভেবে দেখার সময় হলো। জাগুন, অনেক তো হলো, এবার একটু প্রশংসা করুন। ১৭ বছরের অপেক্ষা, নির্বাসন, জুলুম আর অত্যাচার যিনি মুখ বুজে গ্রহণ করেছিলেন, তিনি আজ মহান আল্লাহর কৃপায় দেশ পরিচালনার ভার পেলেন। তিনি সত্যিই এই পদ ও অধিকার দাবি করেন, কারণ তিনি মানুষের জন্য কাজ করেছেন আর তিনি প্রবল ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। এক দেশপ্রেমিক শহীদ পিতার আদর্শে গড়ে ওঠা সেই প্রাণ কি নিজেরই করবে বিলীন মানুষের তরে?
আমি বিশ্বাস করি, সমরে ও শান্তিতে যারা ত্যাগ করেছেন তারা বীর, আর সেই বীরের রক্ত শরীরে নিয়ে সংগ্রামে রত এই নিবেদিত প্রাণ “তারেক রহমান”। এক সময় খুব কাছ থেকে দেখা এই সরল প্রাণকে, যার প্রত্যয় ছিল উদারতা আর সাহসের পরিচয়—হাসোজ্জ্বল সেই মনীষী আজ দেশ গড়ার শপথে বলীয়ান। এই গৌরব আমাদের, এই গৌরব বাঙালির। আসুন, আমরা সেই প্রাণকে সমর্থনে আর ভালোবাসার আলোকে পূর্ণ করি।
অর্থনীতি, ব্যাংকিং, সামাজিক উন্নয়ন ইত্যাদি এক অবশ্যম্ভাবী বিষয়, যার প্রতিফলন দেশ ও জাতি অচিরেই দেখবে, কিন্তু নির্ভেজাল বিশ্বাস ও তাঁর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখতে হবে।
আমি অনুভব করি, বাংলার মানুষ আজ জেগেছে। তারা বিষণ্ণতার তালা ভেঙে দিয়েছে আর বাংলার বিজয়ে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে।
আপনাকে সালাম ও অভিনন্দন।
লেখক : অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকার


আপনার মতামত লিখুন :