দেশজুড়ে চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস, দুর্নীতিসহ সব অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে সরব হয়ে উঠেছে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই এসব বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি সাফ জানিয়েছেন, যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে থাকবে তার সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলীয়, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন পর্যায়ের বৈঠকেও একই নীতির কথা কঠোরভাবে ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন কঠোর হুসিয়ারির পর পর একই বার্তা নিয়ে মাঠে সরব হয়ে উঠেছেন সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এমপিসহ প্রশাসন। শুধু তাই নয়, ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর এ নীতির বাস্তবায়ন শুরু করেছেন অনেকে।
চাঁদাবাজি ও মাদক প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ে আইজিপির বার্তা: চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদক প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম।
তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কেউ চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস বা মাদক সংক্রান্ত অপরাধে জড়ালে দলমত নির্বিশেষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
গতকাল রোববার বিকেলে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেশের সব পুলিশ ইউনিট প্রধান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গে আয়োজিত এক ভার্চ্যুয়াল সভায় আইজিপি এই নির্দেশনা দেন।
আইজিপি বাহারুল আলম সভায় স্পষ্ট করে বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে এমন কোনো রাজনৈতিক দলের তৎপরতা চলতে দেওয়া যাবে না। কেউ যদি জনজীবনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে ছাড় না দিয়ে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে।
মহাসড়কে ডাকাতি প্রতিরোধে হাইওয়ে পুলিশকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে আইজিপি বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে মহাসড়কে ডাকাতি বন্ধ করতে হবে।’ এ ক্ষেত্রে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশকেও সমন্বিতভাবে কাজ করার এবং কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
জানা গেছে, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু তাঁর নির্বাচনি এলাকা ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনকে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও সব ধরনের অনিয়মমুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি এ-সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে একটি হটলাইন নম্বর (০১৭৩০০০৪৮৪৪) চালু করেছেন। নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানান মন্ত্রী। আবদুল আউয়াল মিন্টু লেখেন, ফেনী-৩ এলাকাকে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও যেকোনো ধরনের অনিয়মমুক্ত রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন, নির্ভয়ে তথ্য দিন। আপনাদের দেওয়া তথ্য গোপন রাখা হবে। একইসুরে হুসিয়ারি দিয়েছেন
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, সারা দেশে সড়কে চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ নেই। আর লক্ষ্মীপুরে তো নাই-ই।
এদিন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ নির্মূলে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। মুরাদনগর উপজেলাকে মাদকমুক্ত করতে পারলে প্রশাসনকে পুরস্কৃত করার ঘোষণাও দেন তিনি।
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ঢাকা-১৩ কিশোর গ্যাং থেকে শুরু করে সব ধরনের চাঁদাবাজমুক্ত এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদের সভায় বলেছেন, মন্ত্রী, এমপি, দলীয় কেউই অনিয়মের সঙ্গে জড়ালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন,নির্বাচনের আগেই কথা দিয়েছিলাম বিজয়ী হতে পারলে ঢাকা-৯ আসনকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলব। এখন সময় সেই ওয়াদা রক্ষার। অনিয়মের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকবে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ ক্ষেত্রে অবস্থান জিরো টলারেন্স।
চাঁদাবাজদের কঠোর হুঁশিয়ারি শিমুল বিশ্বাসের: জামায়াতের শক্ত অবস্থান থাকা পাবনা সদর আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর নিজ নির্বাচনী এলাকার চাঁদাবাজ ও অনৈতিক সুবিধাবাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী ও কেন্দ্রীয় শ্রমিকদলের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাড. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। গত শনিবার দিবাগত রাতে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এসময় চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও অনৈতিক যেকোনো সুবিধা গ্রহণ বা অপরাধমূলক কাজের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি।
পাঠকদের উদ্দেশ্যে তার ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-আসসালামু আলাইকুম। দীর্ঘদিন পর দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে ইচ্ছে মতো অবাধে ভোট প্রদান করেছে। জনগণের রায়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিজয় অর্জন করেছে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা জনগণের এই আস্থা ও ম্যান্ডেটকে গভীর দায়িত্ববোধের সঙ্গে গ্রহণ করেছে।
আমি অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছি— আমার নির্বাচনী এলাকা পাবনা-৫ সদর আসনসহ পাবনার কোথাও চাঁদাবাজি, প্রভাব খাটিয়ে ফাও খাওয়া, অবৈধ সুবিধা গ্রহণ বা সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের কোনো সুযোগ থাকবে না। সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছু ব্যক্তি বিএনপির এমনকি আমার নাম ব্যবহার করে অবৈধভাবে সুবিধা দাবি করছে। এই ধরনের কার্যকলাপ সম্পূর্ণ বেআইনি এবং নৈতিকভাবে নিন্দনীয়। এর সঙ্গে আমার বা বিএনপির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। যদি কেউ বিএনপির বা আমার নাম ব্যবহার করে অর্থ দাবি করে বা কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে, অনুগ্রহ করে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করুন। প্রশাসনকে এ ধরনের অপকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করছি। আমি আরো স্পষ্টভাবে বলতে চাই-তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিএনপি সরকার কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, দখলবাজি, ফাও খাওয়া বা অন্যায়-অবিচারকে প্রশ্রয় দেবে না। আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। রাজনৈতিক পরিচয় কখনো অপরাধের ঢাল হতে পারবে না। রাজনীতি আমাদের কাছে দায়িত্ব—কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যম নয়। জনগণের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গীকার। আসুন, আমরা সবাই মিলে সুশাসিত, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক একটি সমাজ গঠনে কাজ করি। আমীন।
এরআগে চাঁদাবাজদের দমন করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন রাজশাহী-২ (সদর) আসনের বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেছেন, আমি এই শহরে জন্ম নিয়েছি। আমি জানি, কারা কী করে বা না করে এখানে। এসব কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
তিনি বলেন, জায়গা-জমি দখলবাজরা জাতির শত্রু, ভূমিদস্যু, যারা চাঁদাবাজ, যারা জনগণের ওপর জুলুম করবে-সে যেই হোক না কেন; তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে। যারা বিভিন্ন জায়গা-জমি দখল করেছেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
মিনু আরও বলেন, রাজশাহীকে শান্তির শহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে। যারা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন, তারা সবাই আমার ভাই। আমি চাই, সবাইকে নিয়ে রাজশাহীকে আমরা গড়ে তুলব।
মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: বিএনপিতে মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী বা অবৈধ দখলদারদের কোনো স্থান থাকবে না বলে অঙ্গীকার করেছেন খুলনা-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল।
তিনি বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক পাচার এবং অবৈধ দখলদারিত্ব থেকে এলাকা মুক্ত করা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তার প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব। নির্বাচনের পর শনিবার দুপুরে বাসসের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি জনসাধারণের অভিযোগ সহজ করার জন্য তিনি (০১৯৭৩-৬৬৭৪৬৬)নম্বরের একটি হটলাইন চালু করেছেন। তিনি নির্বাচনী প্রচারণার সময়কার মতো প্রতি দুই থেকে তিন মাস অন্তর জনগণের সঙ্গে দেখা করে, তাদের উদ্বেগের কথা শোনার এবং তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেছেন।
এদিকে, সর্বশেষ শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মা নদীতে চলাচলরত বালুবাহী নৌযান থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে ‘মূলহোতা’সহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে নড়িয়া থানা পুলিশ।
শনিবার বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে ভোররাতে পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ট্রলারযোগে কয়েকজন ব্যক্তি নদীতে চলাচলরত বালুবাহী বাল্কহেডে উঠে চাঁদা আদায় করছে। বিষয়টি নজরে আসার পর রাতভর পদ্মা নদীতে সাঁড়াশি অভিযান চালায় নড়িয়া থানা পুলিশ। অভিযানকালে ট্রলারে থাকা রাকিব হাওলাদার ও আরিফ মল্লিককে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের মূলহোতা সোহাগ ব্যাপারীকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে নদীতে চলাচলরত বাল্কহেড থেকে চাঁদা উত্তোলনের কথা স্বীকার করেছে বলে জানায় পুলিশ।
এর আগে ‘তোর জায়গা-জমির ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো চলছে। চট্টগ্রাম শহরে ব্যবসা করতে হলে আমাদের ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। এভাবে চাঁদার জন্য চট্টগ্রাম নগরে এক ব্যক্তিকে হুমকি দেওয়া হয়। হুমকির পর এলোপাতাড়ি মারধরও করা হয়েছে তাঁকে। এ ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি আহমেদ কবিরকে শনিবার বিকেলে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আহমেদ কবির নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেন বলে জানায় পুলিশ।
মারধরের শিকার মোহাম্মদ সিরাজ জানান, চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় জায়গা-জমি বিক্রির মধ্যস্থতা করে থাকেন। এতে কমিশন হিসেবে টাকা পান। প্রায় তিন-চার মাস আগে আহমেদ কবিরের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। ওই সময় থেকে আহমেদ কবির তাঁর কাছ থেকে টাকা দাবি করে আসছিলেন। তবে সম্প্রতি তাঁর কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন।
মোহাম্মদ সিরাজ জানান, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা হুমকি দিয়ে সরে পড়ে। পরে আশপাশের লোকজনের সহায়তায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন বলে জানান মোহাম্মদ সিরাজ। এরপর শুক্রবার খুলশী থানায় মামলা করেন।
নগরের খুলশী থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাসুদ কামাল বলেন, মোহাম্মদ সিরাজ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেছিলেন আহমেদ কবির। এ জন্য লোকজন নিয়ে সিরাজের বাসার নিচে গিয়ে সেখানে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা করেন এবং একপর্যায়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আহমেদ কবির নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেন। চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলার ঘটনায় আহমেদ কবিরকে লালখান বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বগুড়ায় চাঁদাবাজি ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বগুড়া জেলা শাখার যুগ্ম সদস্যসচিব মিজানুর রহমানকে (সাগর) গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে তাঁকে আদালতে হাজির করার পর বিচারকের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনার পর দল থেকে মিজানুর রহমানকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে দলীয় পদপদবি ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলার অভিযোগে বিএনপির তিন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান সরাসরি এ মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন। বৃহস্পতিবার রাতে কমলনগর উপজেলার ৮ নম্বর চরকাদিরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম মেম্বার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
২১ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় চাঁদাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
এদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ফতুল্লার পঞ্চবটি গুলশান রোড এলাকায় ইয়াসিন আরাফাত ও আলিফ গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় দুই পক্ষই থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছে।
একইদিন রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় চাঁদাবাজি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এমব্রয়ডারি ফ্যাক্টরিতে একজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে স্থানীয় রাসেল জুনায়েদ গ্যাং। এ ঘটনায় ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় আদাবর থানা ঘেরাও এবং মামলা করেছেন ব্যবসায়ীরা। পরে আদাবর থানায় মামলা করেন ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ী। এরপর অভিযুক্ত রাসেলের বাবাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। চাঁদাবাজদের রুখতে সবার সহযোগিতা চান মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
কালের সমাজ/এসআর


আপনার মতামত লিখুন :