ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২
প্রাক-নির্বাচনী জরিপ

আসন কমলেও সরকার গঠন করবে তৃণমূল কংগ্রেসই

কালের সমাজ ডেস্ক | এপ্রিল ২, ২০২৬, ০১:২৮ পিএম আসন কমলেও সরকার গঠন করবে তৃণমূল কংগ্রেসই

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৩ ও ২৯ এপ্রিল, আর ফল ঘোষণা করা হবে ৪ মে। ভোটের দিনক্ষণ এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে নানা সমীকরণ ও সম্ভাবনার হিসাব-নিকাশ। 

এরই মধ্যে একাধিক প্রাক-নির্বাচনী জরিপে উঠে আসছে চমকপ্রদ তথ্য-আসন কমলেও ফের ক্ষমতায় ফিরতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার দল তৃণমূল কংগ্রেস।

সম্প্রতি সর্বভারতীয় গণমাধ্যম ‘সিএনএন-নিউজ১৮’ ভোট-ভাইব নামের একটি সংস্থার সহযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘ভোট ট্র্যাকার - ব্যাটেল ফর দ্য স্টেটস’ নামে একটি জরিপ চালানো হয়েছে। সেই জরিপ অনুসারে জানা যাচ্ছে, এবারের নির্বাচনে গতবারের তুলনায় রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি অনেকটাই ভালো ফল করবে। পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪ আসনের মধ্যে এবারের নির্বাচনে বিজেপি ১০৮-১১৮টি আসন পেতে পারে।

জরিপে আরও বলা হয়েছে যে, রাজ্যের বাকি বিরোধী দলগুলোর মধ্যে কংগ্রেস এবং সিপিআই(এম)-এর ক্ষেত্রে এবারও ভোটের চ্যালেঞ্জ জানাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হতে পারে।

প্রাক-নির্বাচনী জরিপ অনুযায়ী, কংগ্রেস ও বামফ্রন্টসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো সর্বোচ্চ ৪টি আসন পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
জরিপে অংশ নেওয়া উত্তরদাতাদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম পছন্দ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার সমর্থনে ৪৬ দশমিক ৪ শতাংশ রাজ্যবাসী মত দিয়েছেন। এরপরই পছন্দের তালিকায় রয়েছেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী।

তাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান ৩৪ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ। অন্যদিকে সিপিআই(এম) নেতা মহম্মদ সেলিমকে সমর্থন দিয়েছেন ৫ শতাংশ এবং কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে ৩ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পছন্দের তালিকায় রেখেছেন। তবে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ এদের কাউকেই পছন্দের তালিকায় রাখেননি; তারা নতুন কোনো মুখ দেখতে চান।

কোন ইস্যুতে এবার ভোট দেওয়া উচিত-এমন প্রশ্নে ৩৫ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, বেকারত্ব ও রাজ্যের উন্নয়ন। এরপর রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা এবং নারী নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়, এতে মত দিয়েছেন ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা।

১৭ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করছেন, ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ প্রায় ৮০ লাখের বেশি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে। অন্যদিকে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করছেন, মূল্যবৃদ্ধি ইস্যুটি ভোটে গুরুত্ব পেতে পারে। এছাড়া ১০ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ দুর্নীতির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে ৯ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, কোন ইস্যুতে ভোট দেওয়া উচিত তা তারা বলতে পারবেন না।

ধর্ম ও জাতিভিত্তিক প্রবণতা অনুযায়ী, এতদিন মুসলিম সম্প্রদায়ের বেশিরভাগ ভোট তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষেই যেত। তবে এবারের জরিপ বলছে, তা কিছুটা কমে এসেছে-এখনও ৬০ দশমিক ৯ শতাংশ মুসলিম ভোটার মমতার দলের সঙ্গেই আছেন। আবার তফসিলি জাতি (নিম্নবর্ণ) ও উপজাতিদের মধ্যে বিজেপির প্রভাব জোরালো রয়েছে, তাদের সমর্থন প্রায় ৫০ শতাংশ। এমনকি হিন্দু ও উচ্চবর্ণের হিন্দুদের ৪৬ দশমিক ৮ শতাংশ বিজেপির পক্ষে মত দিয়েছেন, যেখানে ৩৫ দশমিক ৪ শতাংশ তৃণমূলের দিকে ঝুঁকে রয়েছেন।

বিগত বছরগুলোতে বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্য সরকারের কর্মক্ষমতার বিষয়টিও নির্বাচনী ইস্যু হতে পারে বলে মনে করছেন উত্তরদাতারা। মমতার সরকারের কর্মক্ষমতা নিয়ে ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতা ‘খুব ভালো’ হিসেবে রেটিং দিয়েছেন। যেখানে ১০ দশমিক ৬ শতাংশ ‘ভালো’, ১২ দশমিক ২ শতাংশ ‘মোটামুটি’, ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ ‘খারাপ’ এবং ২৫ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা মমতার প্রশাসনকে ‘খুব খারাপ’ বলে অভিহিত করেছেন। ৬ শতাংশ মানুষ তাদের মতামত প্রকাশ করেননি।

শেষ বিধানসভা নির্বাচন অর্থাৎ ২০২১ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ২১৫টি আসনে জয় পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এর জেরেই তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেবার বিজেপি পেয়েছিল ৭৭টি আসন। অর্থাৎ গত নির্বাচন থেকেই রাজ্যে শক্তি বাড়িয়েছে বিজেপি। তার আগে প্রান্তিক শক্তি হিসেবেই ধরা হতো ভারতীয় জনতা পার্টিকে।

নিয়ম অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে ২৯৪ আসনের মধ্যে সরকার গড়তে প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। সেখানে ১৭৪ থেকে ১৮৪টি আসন মমতার দল তৃণমূল জিততে পারে বলে আভাস মিলেছে।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!