প্রথমবারের মতো আইপিএল আদলে ক্রিকেটারদের নিলামের মাধ্যমে শুরু হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত বাংলা হান্ড্রেড লিগ (বিএইচএল)—যা ইতোমধ্যেই কমিউনিটিতে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে এবং প্রবাসী ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
সিডনির লাকেম্বা লাইব্রেরি হলে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমধর্মী নিলাম অনুষ্ঠানটি ছিল প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর। প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি পরিণত হয় এক মিলনমেলা ও উৎসবের আবহে। এই আয়োজনকে আরও মর্যাদাপূর্ণ করে তুলেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ইমরুল কায়েস, যিনি টুর্নামেন্টটির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে যুক্ত হয়েছেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এই উদ্যোগকে প্রবাসী ক্রিকেটারদের জন্য একটি “ঐতিহাসিক দিন” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এর সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে গভীর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
এর আগে সিডনিতে একাধিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হলেও বৈশ্বিক টি-টোয়েন্টি লিগগুলোর মতো পেশাদার নিলাম পদ্ধতির এমন আয়োজন এই প্রথম। টুর্নামেন্ট কমিটির ডিরেক্টর আতিকুর রহমান সজীব জানান, বর্তমান সময়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে ছোট ফরম্যাটের খেলার জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই হান্ড্রেড ফরম্যাটে এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে নিলামের মাধ্যমে ক্রিকেটার বাছাই করা হয়েছে—যা পুরো আয়োজনকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
নিলামে মোট ১৬১ জন ক্রিকেটার অংশগ্রহণ করেন, যাদের মধ্যে ৮০ জন বিভিন্ন দলে জায়গা করে নেন। ৬টি ফ্র্যাঞ্চাইজি দল গঠিত হয় এবং প্রতিটি দল সর্বোচ্চ ১৩ জন খেলোয়াড় দলে ভেড়ায়। এছাড়া ৬ জন আইকন ক্রিকেটার ছিলেন এবং ডিরেক্ট সাইনিংয়ের মাধ্যমেও কয়েকজন ক্রিকেটারকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ক্রিকেটারদের বেস প্রাইস ছিল ৪ হাজার টাকা, যা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নিলামের মধ্য দিয়ে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়—যা খেলোয়াড়দের প্রতি দলগুলোর আগ্রহ ও প্রতিযোগিতার মাত্রা স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
তিনি আরও জানান, আগামী ১৯ এপ্রিল থেকে ক্যাম্বেলটাউনে শুরু হবে এই টুর্নামেন্ট। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল পর্যন্ত তিনটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। মাঠের উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ের পাশাপাশি দর্শকদের জন্য থাকবে আকর্ষণীয় পুরস্কার, বিনোদনমূলক আয়োজন এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে উপভোগ করার মতো উৎসবমুখর পরিবেশ।
এই আয়োজন উপলক্ষে সিডনির বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। প্রোপার্টি ওয়ানের কর্ণধার আলী শিকদার বলেন, অস্ট্রেলিয়ার ব্যস্ত জীবনের মাঝেও তরুণদের ক্রিকেটের প্রতি এমন আগ্রহ ও উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। তার মতে, এ ধরনের আয়োজন শুধু খেলাধুলাকে এগিয়ে নেয় না, বরং প্রবাসী কমিউনিটির মধ্যে পারস্পরিক বন্ধনও আরও দৃঢ় করে।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও ভয়েস অফ সিডনি সম্পাদক অর্ক হাসান, ট্রাব অস্ট্রেলিয়ার মুখপাত্র শাকিল শিকদার, ডায়াসপোরা শিশু বিষয়ক সাংবাদিক কে এম ধ্রুব প্রমুখ।
পুরো নিলাম অনুষ্ঠানটি দক্ষতার সঙ্গে সঞ্চালনা করেন হুমায়ুন কবির রোজ। এছাড়া তাহসিন আহমেদ, আবিদা এবং গালিব ইবনে রিয়াজের উপস্থাপনায় ৬টি ফ্র্যাঞ্চাইজি দল ও অংশগ্রহণকারী ক্রিকেটারদের উপস্থিতিতে নিলাম সম্পন্ন হয় এক প্রাণবন্ত ও উপভোগ্য পরিবেশে।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৯ এপ্রিল থেকেই মাঠে গড়াবে বাংলা হান্ড্রেড লিগের রোমাঞ্চকর প্রথম আসর। এটি শুধু একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বপ্ন, ঐক্য, প্রতিভা ও ক্রীড়াপ্রীতির এক উজ্জ্বল প্রতিফলন। ভবিষ্যতে এই আয়োজন আরও বৃহৎ পরিসরে বিস্তৃত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সবার।
কালের সমাজ/এসআর

