ঢাকা সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

পিরোজপুরে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও তদারকি জোরদারে প্রশাসনের কঠোর সিদ্ধান্ত

জেলা প্রতিনিধি, পিরোজপুর | মার্চ ২৯, ২০২৬, ০৫:১১ পিএম পিরোজপুরে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও তদারকি জোরদারে প্রশাসনের কঠোর সিদ্ধান্ত

এতে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডার মেজর ইশরাক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল, জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি), এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণ, এনএসআই ও ডিজিএফআইয়ের প্রতিনিধি, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম সাইদুল ইসলাম কিসমত, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মনিরুজ্জামান নাছিম আলী, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সভাপতি জিয়াউল আহসান, জেলার পাঁচটি ফিলিং স্টেশনের প্রতিনিধি, তেল কোম্পানির ডিপো প্রতিনিধি, ফায়ার সার্ভিস ও প্রিন্ট-ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
 

সভায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও তদারকি কার্যক্রম আরও জোরদার করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে ৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি ভিজিল্যান্স কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া জেলার প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যারা সরাসরি তদারকি করবেন।
 

তেল সরবরাহের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তেল কোম্পানিগুলোকে জেলায় সরবরাহকৃত তেলের পরিমাণ নিয়মিতভাবে মনিটরিং টিমকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে মোটরসাইকেলে তেল নিতে হলে রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেট থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্লিপ ছাড়া কোনোভাবেই তেল সংগ্রহ করা যাবে না বলেও জানানো হয়।
 

ভোক্তা পর্যায়ে—বিশেষ করে ঠিকাদার, কৃষক ও জেলেদের জন্য—অধিক পরিমাণ তেল নিতে হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রত্যয়নপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সভায় তেলের ডিপো প্রতিনিধিরা জানান, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে পিরোজপুরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে প্রায় দ্বিগুণ তেল সরবরাহ করা হয়েছে। এরপরও সংকট দেখা দেওয়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক উল্লেখ করে তারা ধারণা দেন, অবৈধ মজুদই এর প্রধান কারণ।
 

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারি বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ফিলিং স্টেশনগুলোতে নিয়মিত তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে সরকারি লাইসেন্স ছাড়া কেউ যাতে খোলাবাজারে অতিরিক্ত মূল্যে তেল বিক্রি করতে না পারে, সে বিষয়ে নজরদারি জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়।
 

তিনি আরও বলেন, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। সভা শেষে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার মাধ্যমে জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

 

 

কালের সমাজ/ কে.পি

Link copied!