গত মঙ্গলবার সকাল থেকে মোংলায় শতাধিক ইজিবাইকে করে ‘ দৈনিক র্যাফেল ড্র’ নামের এ লটারির টিকিট বিক্রি করতে দেখা যায়। ২০ টাকা দিয়ে টিকিট কিনলে পুরস্কার হিসেবে দামি উন্নত মডেলের মোটরসাইকেল দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। এতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। প্রতারিত হচ্ছেন তারা। স্থানীয়রা বলছেন, র্যাফেল ড্রকে লটারি বলা হলেও এটি এক ধরনের উন্মুক্ত জুয়া।
ইতিমধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল মোংলা পৌর শাখার সদস্য সচিব এম এ কাসেম, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মোংলা পৌর শাখার সদস্য সচিব মীর সাগরের নেতৃত্বে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে এই সর্বশান্ত হওয়া মেলাটি বন্ধ করে দেন। তাদের এই মহত্ত্ব কাজ কে সমাজের সচেতন মহল সাধুবাদ জানিয়েছেন।
এর আগে এক আওয়ামী লীগ নেতারা নেপথ্যে থেকে একই স্থানে এই র্যাফেল ড্র চালু করেন। এতে রামপাল - মোংলার সাধারণ মানুষ মানবতার জীবন পার করছিলো।
এই মেলায় গোপাল কৃষ্ণ কালু নামের স্থানীয় এক বিএনপির ট্যাগ নেতা মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসাবে দায়িত্বে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু বিগত আওয়ামী লীগের আমলেও এই গোপাল কৃষ্ণ কালু নামের এই ট্যাগ ব্যক্তি এক আওয়ামী লীগ নেতারা নেপথ্যে থেকে একই স্থানে এই র্যাফেল ড্র চালু করে বিপুল টাকা হাতিয়ে নেন এবং যে দল যখন আসেন সে তখন সেই দলের ট্যাগ লাগিয়ে বিভিন্ন যায়গা থেকে চাঁদাবাজি করার অভিযোগ ও রয়েছে এই ট্যাগ নেতার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের মোংলা পৌর শাখার সদস্য সচিব এম এ কাসেম বলেন, পুরস্কারে মোটরসাইকেল`সহ বিভিন্ন কথা প্রচার করে এরা শহর ও গ্রামগঞ্জে লাখ লাখ টাকার টিকিট বিক্রি করছে। ইজিবাইক ও ভ্যানচালক, দিনমজুর সারা দিন যা আয় করছে, তাই দিয়ে সেখানে লাইন দিয়ে টিকিট কিনছে। এরপর রাতে খালি হাতে বাড়ি ফিরছে। এটা বন্ধ করতে না পারলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে। আমরা র্যাফেল ড্র বন্ধের দাবি জানিয়েছি।
এ বিষয়ে জানা’র জন্য মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি গোপাল কৃষ্ণ কালু`কে সরজমিনে পাওয়ায় বা তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলে কল ধরেন নাই তাই তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাগেরহাট -৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, আমি বিশ্বাস করি, প্রকৃত ত্যাগী নেতাকর্মীরা দলের সুনাম নষ্ট হয় এমন কাজ করতে পারে না। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। এখন দলের সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। দল কারো অপকর্মের দায় নিবে না। আমি আমার নির্বাচনী এলাকা বাগেরহাট-৩ (মোংলা- রামপাল) এর সকলকে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বিনীত অনুরোধ করছি। আমি বিএনপি‘র একজন কর্মী হিসেবে দলের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর ""ধন্যবাদ""।
এ বিষয়ে জানার জন্য মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমীন আক্তার সুমির মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়ার পরবর্তীতে কল রিসিভ করলে সাংবাদিক পরিচয় দিলে সঙ্গে সঙ্গে কলটি কেটে দেন তার জন্য তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শাহিনুর রহমান শাহীন বলেন, বিজয় মেলার অনুমোদন আছে। কিন্তু কোনো জুয়া খেলার অনুমতি নাই। মেলা এক মাসের অনুমোদন আছে, মেলা চলবে। র্যাফেল ড্র’র নামে জুয়া খেলা বন্ধ থাকবে। এবং জনস্বার্থবিরোধী ও প্রতারণামূলক জুয়া বা লটারি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।মেলায় অবৈধ জুয়ার আড্ডা বসলে সাথে সাথে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালের সমাজ/ কে.পি

