জানা গেছে, পানি শোধনাগারের পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় পিরোজপুর পৌরসভার একমাত্র পানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মক সংকটে পড়েছে। ফলে পৌর এলাকার প্রায় দুই লাখ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী দিনে দুই দফা দুই ঘণ্টা করে পানি সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক এলাকায় এক ঘণ্টাও পানি মিলছে না। কোথাও কোথাও একদিন পরপর পানি দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরে পানি সংকট ধীরে ধীরে তীব্র আকার ধারণ করেছে। একসময় নির্ভরযোগ্য পানির উৎস থাকলেও জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তা অপ্রতুল হয়ে পড়ে। ১৯৮৩ সালে চালু হওয়া পানি শোধনাগারটি শুরুতে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৫০ হাজার লিটার পানি উৎপাদন করত। বর্তমানে উৎপাদন বেড়ে প্রায় তিন লাখ লিটারে দাঁড়ালেও চাহিদার তুলনায় তা অনেক কম।
পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অমিত বলেন, “প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ করে পানির সংযোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু লাইনে পানি না পাওয়ায় সেটি বন্ধ করে দিতে হয়েছে। আমাদের এলাকায় টিউবওয়েল বসানো যায় না, তাই পুরোপুরি পৌরসভার পানির ওপর নির্ভরশীল। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাজিয়া বেগম বলেন, “পানির সমস্যার কারণে ভাড়াটিয়ারা এখানে থাকতে চায় না। আমার তিনটি ঘরের মধ্যে দুইটির ভাড়াটিয়া ইতোমধ্যে চলে গেছে।
পৌরসভার পানি শোধনাগারের কর্মচারী বাবুল হাওলাদার জানান, সমস্যা সমাধানে নেওয়া পদক্ষেপগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। পুকুর পুনঃখনন এবং পুরনো সরু পাইপ পরিবর্তন করে বড় পাইপ বসানো জরুরি বলে তিনি মনে করেন। এ বিষয়ে পৌরসভার পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান বলেন, “একসময় গ্রাহক সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০০, বর্তমানে তা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে।
এ মৌসুমে নদী-খাল শুকিয়ে যাওয়ায় পানি সরবরাহ কমে গেছে। নতুন একটি পানি শোধনাগার স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। এটি বাস্তবায়ন হলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা করছি, তবে এতে সময় ও অর্থের বিষয় জড়িত। তিনি আরও জানান, “পৌরবাসীর পানির কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে রিজার্ভের জন্য ব্যবহৃত পুকুরটি, যা পলি জমে ভরে গিয়েছিল, সেটির পুনঃখনন কাজ গত ১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার প্রায় দুই লাখ মানুষের জন্য প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৯ লাখ লিটার পানির প্রয়োজন হলেও বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৩ লাখ লিটার। চাহিদা ও সরবরাহের এই বড় ব্যবধানই বর্তমান সংকটের মূল কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আসন্ন গ্রীষ্মে পিরোজপুরে পানি সংকট আরও তীব্র হয়ে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
কালের সমাজ/ কে.পি

