ঢাকা শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২

২৬ মার্চ—স্বাধীনতার উদ্বোধন

তারিক আফজাল | মার্চ ২৬, ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম ২৬ মার্চ—স্বাধীনতার উদ্বোধন

“আমি মেজর জিয়া বলছি”—এক দেশপ্রেমিক বীরের বীরত্ব আর বজ্রকণ্ঠের প্রতিচ্ছবি বাংলার স্বাধীনতা। সেই বীরত্ব ও অঙ্গীকারের দিন ২৬ মার্চ, যা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল সরকার শ্রদ্ধা ও গর্বের সঙ্গে উদযাপন করে এসেছে। মহান সেই দেশপ্রেমিক, যার অকুণ্ঠ অবদান জাতি আজও বুকে লালন করছে।

১৯৭৭-পরবর্তী বাংলাদেশ যেন এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছিল। গণতন্ত্র ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশটি হয়ে উঠছিল এক অপ্রতিরোধ্য শক্তি। বিশ্ব দরবার অবাক চোখে দেখছিল আগামীর বিজয় ও স্বনির্ভরতার সম্ভাবনা। আন্তর্জাতিক পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশনে প্রচারিত হচ্ছিল সেই বীরের দেশ গড়ার পরিকল্পনা, যার ভিত্তি ছিল সততা, পরিশ্রম, আন্তরিকতা ও শৃঙ্খলা।

বাংলার প্রান্তিক মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও জীবনমান উন্নয়ন, কৃষির প্রসার, বহুমুখী আমদানি-রপ্তানি নীতি প্রণয়ন, শিল্পের বিকাশ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান—এসব পদক্ষেপ বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল।

সেই প্রয়াত শহীদ রাষ্ট্রপতির অতি সাধারণ জীবনযাপন, সামান্য আহার এবং জনতার সঙ্গে চলাচল আজও এক অবিস্মরণীয় স্মৃতি।

তার অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ও দৃঢ় আত্মবিশ্বাস তাকে এক অনন্য মানবিক উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছিল, যা আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ১৯৭৭ সালের সেই সুদর্শন মানুষটি আজও মানুষের মনের প্রান্তে জেগে আছেন।

আধুনিক ও উদার মানসিকতার সেই মানুষটি যেন প্রকৃতি ও মানুষের মাঝে নিজেকে মিশিয়ে দিয়েছিলেন। দেশ, মানুষ ও তার জীবন এক অনন্য ইতিহাস রচনা করেছিল।

দুষ্টের দমন এবং সাধারণ মানুষের জীবন ছিল নিশ্চিন্ত ও উদ্যমে ভরা। সেই দিনগুলো ছিল প্রাণবন্ত ও দুঃসংবাদহীন। ছিল না চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার বা নীতিবহির্ভূত কার্যকলাপ। তার কঠোর বাণী ছিল—“আমার সরকার কঠোর হস্তে দমন করবে।”

আপোষহীন সেই দেশপ্রেমিক একাধারে জেড ফোর্সের অধিনায়ক, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান, রাষ্ট্রনায়ক ও বাঙালি হিসেবে আজও অম্লান।

তার প্রতিষ্ঠিত সশস্ত্র বাহিনী আজ বিশ্বকে তাক লাগানো দক্ষতা প্রদর্শন করে চলেছে, যা দেশ-বিদেশের মানুষের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

উল্লেখ্য, সেই মহান দেশপ্রেমিকের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সুফল পরবর্তী বাংলাদেশ ও সরকার পেয়েছে। তার আদর্শে প্রতিহিংসা, ধ্বংস, উগ্রতা বা ঘৃণা ছিল না; বরং ভালোবাসা, নীতি ও নৈতিকতার সমন্বয় ছিল স্পষ্ট। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, পরবর্তী অনেক সরকার সেই উদাহরণ থেকে শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং অরাজকতার পথে অগ্রসর হয়েছে।

এই মহান স্বাধীনতার মাসে আসুন আমরা স্মরণ করি সেই মহান মুক্তিযোদ্ধাকে, যিনি বাংলাদেশকে বুকে ধারণ করে আত্মত্যাগ করেছেন, কিন্তু অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করেননি।

জীবনের শেষ লগ্নে তিনি বলেছিলেন—“প্রথম বাংলাদেশ, আমার শেষ বাংলাদেশ; জীবন বাংলাদেশ, আমার মরণ বাংলাদেশ।”

 

লেখক : অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকার

Link copied!