বিবৃতিতে তিনি বলেন, মুসলিমদের পবিত্র রমজান মাসে পরিচালিত এই হামলায় নারী ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা গভীরভাবে উদ্বেগজনক।
রণধীর জয়সওয়াল আরও মন্তব্য করেন, এই হামলা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আড়াল করার আরেকটি প্রচেষ্টা। একই সঙ্গে তিনি আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও স্বাধীনতার প্রতি ভারতের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
এদিকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর দাবি, আফগানিস্তানে চালানো অভিযানে ২২৮ জন তালেবান সদস্য নিহত এবং অন্তত ৩১৪ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী জানান, ‘অপারেশন গজব লিল–হক’-এর আওতায় তালেবানের ৭৪টি কমান্ড পোস্ট ধ্বংস করা হয়েছে এবং ১৮ জনকে আটক করা হয়েছে।
অন্যদিকে পাকিস্তানের হামলার জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে আফগানিস্তান। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ইসলামাবাদের ‘প্রত্যেক অশুভ কর্মকাণ্ডের’ উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
তিনি দাবি করেন, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ইস্যু এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার একটি অজুহাত মাত্র এবং এটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়।
মুজাহিদ আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে আফগানিস্তানের ভালো সম্পর্ক রয়েছে, তবে তা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অর্থ নয়।
কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর ফের সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী দুই দেশ আফগানিস্তান ও পাকিস্তান। গত রোববার আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলায় ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন বলে জানায় আফগানিস্তানে জাতিসংঘের মিশন।
তবে ইসলামাবাদের দাবি, ওই হামলায় ৮০ জনের বেশি সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। বিপরীতে কাবুল জানায়, নিহতের সংখ্যা ১৮ জন।
এর জবাবে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) আফগান বাহিনী পাকিস্তান সীমান্তে দেশটির সামরিক অবস্থানে হামলা চালায়। এতে দুই পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে বলে জানায় ইসলামাবাদ।
এরপর রাতেই আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ও কান্দাহার শহরে নতুন করে হামলা চালায় পাকিস্তান। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ শুরুর ঘোষণা দেন।


আপনার মতামত লিখুন :