যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ইরানি নাগরিকদের নিজ দেশের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির আহ্বান জানিয়েছে। এমনকি যোগাযোগ করার উপায়ও বাতলে দিয়েছে। তুরস্কের রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিআইএ ইরানিদের মার্কিন এই সংস্থার জন্য ‘আগ্রহী কোনো তথ্য’ বা সংস্থাটির সঙ্গে কাজ করার জন্য কোনো ‘দক্ষতা’ থাকলে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ফারসি ভাষায় শেয়ার করা এক পোস্টে সংস্থাটি জানায়, ‘হ্যালো। সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) আপনার কণ্ঠ শুনতে পাচ্ছে এবং আপনাকে সাহায্য করতে চায়। আমাদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি নিরাপদে যোগাযোগ করার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা নিচে দেওয়া হলো।’ পোস্টটির সঙ্গে সিআইএর সঙ্গে যোগাযোগের উপায়-সংবলিত দুই মিনিটের একটি ভিডিও যুক্ত করা হয়েছে।
ভিডিওটিতে ইরানিরা কীভাবে যোগাযোগ করতে পারবেন, তার বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে অফিসের কম্পিউটার বা ফোন এড়িয়ে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) বা টর (Tor) নেটওয়ার্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পোস্টটি এমন এক সময়ে করা হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে তাদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে পরমাণু চুক্তিতে না পৌঁছালে দেশটিকে সামরিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
গত কয়েক সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে দুটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি এবং ব্যাপক বিমান শক্তি মোতায়েনের ফলে উত্তেজনা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ওমানের মধ্যস্থতায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার জেনেভায় তৃতীয় দফার পরোক্ষ পরমাণু আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তেহরান আমেরিকানদের কাছে একটি খসড়া প্রস্তাব হস্তান্তর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প কূটনীতিকে প্রধান্য দিলেও সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পটি সব সময় খোলা রাখছেন।
এদিকে ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্য়ম কেএএনের বরাতে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে মঙ্গলবার অন্তত ১২টি মার্কিন এফ-২২ ফাইটার জেট ইসরায়েলের একটি বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে।
কেএএন জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মোতায়েনের অংশ হিসেবে আজ দুপুরে ১২টি মার্কিন এফ-২২ ফাইটার জেট দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একটি ইসরাইলি বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, এই বিমানগুলো বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে অন্যতম, যা শুধু আমেরিকার কাছেই রয়েছে। এগুলোর প্রধান কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘শত্রু সীমানায় প্রবেশ করা এবং আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও রাডার স্থাপনাগুলো অচল করে দেওয়া।’
বর্তমান পরমাণু আলোচনা ব্যর্থ হলে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির মুখে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকা তাদের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করেছে।
কালের সমাজ/এসআর


আপনার মতামত লিখুন :