আজ সাওমের দ্বিতীয় দিন। পুণ্যময় রমজানের সাধনায় জীবন হয়ে উঠুক বরকতময়। আল্লাহর রহমতস্নাত এই মাসে জীবন আলোকময় করা অতি সহজ। কারণ, সাওমের প্রতিদান মহান আল্লাহ নিজেই দান করবেন। পবিত্র বিশুদ্ধতম হাদিসগ্রন্থ বুখারি শরিফে উঠে এসেছে, আল্লাহ তাআলা বলেন, মানুষের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্য হয়ে থাকে, কিন্তু সিয়াম শুধু আমার জন্য। আমিই তার প্রতিদান দেবো। সে তার প্রবৃদ্ধি ও পানাহার আমার জন্যই ত্যাগ করে। (বুখারি ও মুসলিম)
বরকতময় এই মাসের জন্য মুমিনেরা সুতীব্র আশায় ছিলেন, আবেগে ও ভালোবাসায় আমলের আকাক্সক্ষা ও বাসনায় ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ওয়া বাল্লিগনা রমজানা’ উচ্চারিত হচ্ছিলো মুমিনের মুখে মুখে। আবেগঘন এক ভালোবাসার পঙক্তিমালা। হে আল্লাহ! আপনি হায়াতে রমজান পর্যন্ত বরকত দান করুন। আমরা যারা বেঁচে আছি, মহান আল্লাহর রহমতে সিয়ামকে পেয়েছি। আল্লাহর অনেক বড় মেহেরবানী। এটুকু পর্যন্ত মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের বরকত দিয়ে ভরে দিয়েছেন। সত্যিকার অর্থেই আমরা পৌঁছে গেছি পবিত্র রমজানে। এ মাহিনার প্রতিটি ইফতার, সাহরি ও তারাবিতে আল্লাহ তাআলা দুআ কবুল করবেন।
আমরা জানি, রোজায় আল্লাহর অবারিত রহমতে ছেয়ে যায় গোটা দুনিয়া। মানুষ নিজেকে অতীব সুন্দরতম করে গড়ে তুলতে একটা নিয়মিত তারবিয়্যাতে, প্রশিক্ষণে অংশ নেয়। সিয়ামের সাহরি থেকে ইফতার পর্যন্ত প্রতিটি আমলই প্রশিক্ষণের। প্রশিক্ষিত বান্দা যেনো হররোজ ভালো থাকে, আমলে আখলাকে। এক মাসের প্রশিক্ষণে পরের এগার মাস যেনো নিজেকে সামলে চলতে পারে। অপরাধের পথ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে চলতে পারে।
সাওমের প্রতিদান সরাসরি মহান আল্লাহ দেবেন বলে মানুষের আগ্রহও এর প্রতি অনেক। এক হাদিসে আছে, হযরত সাহল ইবন সাদ রা. বর্ণনা করেন, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, বেহেশতে আটটি দরজা রয়েছে। তন্মধ্যে একটি দরজার নাম ‘রাইয়্যান’। রোজাদাররা ব্যতীত ঐ দরজা দিয়ে আর কেউই প্রবেশ করত পারবে না।
সাওমের প্রতিটি পরিবারে শান্তি ফিরে আসে। কলহ কম হয়। ঝগড়াও কম হয়। মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি সহনশীল হয়। পরিবারের সব সদস্যদের মধ্যেই আলাদা একটা সহনীয় মানসিকতার সৃষ্টি হয়। তাই বিবাদ কমে যায়। পরিবারে শান্তি ফিরে আসে। একে অপরের প্রতি টানও বহু গুণে বেড়ে যায়। রোজার এই রহমতের ছায়া একান্তই পারিবারিক জীবনের প্রশান্তির পাঠশালা বলা যায়।
রোযার প্রথম দশ দিন রহমতের। রহমত কেবল এই দশ দিনের জন্য থাকে না। সারা জীবনই রহমতের এই আভা মন রাঙিয়ে রাখে। মাগফিরাত সত্যিই যেন গ্রহণ করতে পারি। মুক্তির সনদ পেয়ে আখিরাতের সব কল্যাণে যেনো আমরা বরিত হই। রমজানের সাধনায় জীবন হয়ে উঠুক বরকত ও রহমতের বৃষ্টিস্লাত। রোজার প্রতিটি ক্ষণ বা মুহূর্তই পুণ্যময়, বরকতময়। পুণ্যব্যতীত কোনো মুহূর্ত নেই। সাহরি, সালাত, কুরআন তেলাওয়াত, ইফতার, তারাবি, কিয়ামুল লাইলসহ নানা রকম পুণ্যময় আমলেই ডুবে থাকুক মোমিন । এজন্য মাহে রমজানকেই বলা হয় পুণ্য ও বরকতের আধার। আল্লাহ তাআলা আমাদের কবুল করুন। আমীন।
লেখক : পারিচালক, আন-নাহাল ইসলামিক এডুকেশন ফোরাম ঢাকা।
ইমেইল : masudulkadir83@gmail.com
কালের সমাজ/এসআর


আপনার মতামত লিখুন :