মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে চ্যালেঞ্জ করে এক কড়া বার্তা দিয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের দাবিকে ‘মিথ্যা ও নিরর্থক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।
সোমবার সামরিক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দেয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, শত্রুপক্ষ নিজেদের অপরাজেয় বলে দাবি করলেও ইতিহাসের পাতায় তাদের পরাজয় ও অপমানের অনেক নজির রয়েছে।
মেজর জেনারেল হাতামি তাঁর বক্তব্যে ভিয়েতনাম এবং আফগানিস্তানের যুদ্ধের উদাহরণ টেনে বলেন, তথাকথিত অপরাজেয় শত্রু এই দেশগুলোতে টানা ২০ বছর যুদ্ধ করেও শেষ পর্যন্ত লজ্জাজনকভাবে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। একই ফলাফল ইরাকসহ অন্যান্য দেশেও দেখা গেছে।
তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র বড় বড় দাবি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে কোনো দেশে প্রবেশ করলেও তাদের বিদায় সব সময় অপমানের মাধ্যমেই ঘটে।
ইরানে ফলের বাজারের আছড়ে পড়লো সামরিক হেলিকপ্টারইরানে ফলের বাজারের আছড়ে পড়লো সামরিক হেলিকপ্টার
বর্তমান সময়ের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে অতীতের চেয়ে অনেক বেশি জটিল ও কঠিন হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইরানি সেনাপ্রধান। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান বর্তমানে একটি `হাইব্রিড ওয়ার` বা বহুমুখী যুদ্ধের মুখোমুখি। এই যুদ্ধ শুধুমাত্র সামরিক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়, বরং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, মনস্তাত্ত্বিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনেও ছড়িয়ে পড়েছে।
হাতামির মতে, শত্রুরা ইরানকে দুর্বল করার জন্য ‘কৌশলগত ক্ষয়’ নামক একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো ধাপে ধাপে পদক্ষেপ নিয়ে ইরানকে ভেতর থেকে ক্লান্ত ও অবসন্ন করে তোলা। তবে তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, ইরান শত্রুর এই সামগ্রিক পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত এবং জনগণের দৃঢ়তা ও প্রতিরোধের মাধ্যমে এই উদ্দেশ্য নস্যাৎ করে দেওয়া হবে।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন রণতরী মোতায়েন এবং ক্রমাগত হুমকির বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে জেনারেল হাতামি বলেন, শত্রুরা কল্পনাও করতে পারেনি যে, ইরান এতটা দৃঢ়ভাবে তাদের মোকাবিলা করবে। তিনি দাবি করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলি খামেনির দূরদর্শী নেতৃত্বে শত্রুদের উপযুক্ত ও ‘চূর্ণবিচূর্ণকারী’ জবাব দেওয়া হয়েছে।
জেনারেল হাতামির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরমাণু আলোচনা এবং সামরিক পাল্টাপাল্টি হুমকির কারণে গোটা বিশ্ব উদ্বিগ্ন। তাঁর ভাষণে এটি স্পষ্ট যে, ইরান কেবল সামরিক শক্তি নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদী মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের জন্যও নিজেদের প্রস্তুত রাখছে।
কালের সমাজ/এসআর


আপনার মতামত লিখুন :