ঢাকা বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২

সিরাজগঞ্জে জমে উঠেছে ইফতারের বাজার

কালের সমাজ ডেস্ক | ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম সিরাজগঞ্জে জমে উঠেছে ইফতারের বাজার

পবিত্র রমজানকে ঘিরে সিরাজগঞ্জ শহরে জমে উঠেছে ইফতারের বাজার। প্রতিদিন বিকাল গড়াতেই শহরের বিভিন্ন বাজার ও পাড়া-মহল্লার অস্থায়ী দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিক্রেতাদের হাঁক-ডাক আর ক্রেতাদের কেনাকাটার উৎসবে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো ইফতার বাজার।

শহরের বড় বাজার, মাসুমপুর বৌ বাজার, বাজার স্টেশন, গুড়ের বাজার, মিরপুর ওয়াবদা, কাটা ওয়াবদা ও কালিবাড়ি বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, দুপুরের পর থেকেই ফুটপাত দখল করে ইফতার তৈরির প্রস্তুতি চলছে। মৌসুমি ব্যবসায়ী ছাড়াও বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁ, মিষ্টি ও খাদ্যদ্রব্যের দোকানের সামনে কাপড় টানিয়ে সাজানো হয়েছে বাহারি ইফতার সামগ্রী।
 

ছোলা, বুন্দি, মুড়ি, পেঁয়াজু, বেগুনি, খেজুর, ডিম চপ, জিলাপি, কলা, লেবু, চপ, শরবত, ঘোল, হালিম, আনারসসহ রকমারি সব ইফতার পসরা নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ইফতার সামগ্রী কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন এসব দোকানে।

ইফতার বিক্রেতা রহিম জানান, তিনি প্রতিবছরই ইফতার বিক্রি করেন। আলুর চপ, পেঁয়াজু, বেগুনি, ছোলা, বুন্দি, জিলাপি ও হালিমসহ নানা আইটেম দোকানেই তৈরি করে বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, এবার ক্রেতার চাপ ভালো, বিক্রিও সন্তোষজনক।

বাজার ঘুরে জানা গেছে, ছোলা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২০০ টাকা, জিলাপি ১৪০ টাকা, বুন্দি ২০০ টাকা, পেঁয়াজু ২০০-২১০ টাকা। ঘোল ১০০ টাকা ও মাঠা ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খেজুরের দাম প্রকারভেদে ২৫০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত। কলা হালি ৩০-৭০ টাকা, দেশি মুড়ি ৭০-১৪০ টাকা এবং লেবু হালি ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চপ, বেগুনি ও পেঁয়াজু প্রতিটি ৫ থেকে ১০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে শহরের বিভিন্ন মোড়ে বসেছে সলপের বিখ্যাত ঘোলের স্থায়ী ও ভ্রাম্যমাণ দোকান, যেখানে চোখে পড়ার মতো ভিড় দেখা যাচ্ছে।

স্টেশন সংলগ্ন বাজারের ইফতার বিক্রেতা বাবু জানান, তার দোকানে পাঁচজন কর্মচারী কাজ করছেন। রোজার প্রথম দিন থেকেই ব্যাপক ক্রেতা সমাগম হচ্ছে। তিনি বলেন, “গত বছর অনেক সময় ইফতার অবিক্রিত থাকত। এবার সেই অবস্থা নেই, প্রায় সবই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।”

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, ইফতার সামগ্রীর দাম তুলনামূলক বেশি। বয়োজ্যেষ্ঠ ক্রেতা ইকবাল কবির বলেন, “সব ইফতারের দামই বেশি। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী অল্প কিছু কিনেই ইফতার করতে হচ্ছে।” আরেক ক্রেতা রাকিব জানান, ফুটপাতের দোকানের তুলনায় শহরের অভিজাত রেস্তোরাঁগুলোতে ইফতারের দাম আরও বেশি রাখা হচ্ছে।

রমজানে ক্রেতা-বিক্রেতার জমজমাট উপস্থিতিতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে সিরাজগঞ্জের ইফতার বাজার। তবে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামের প্রভাব ইফতার সামগ্রীতেও পড়েছে বলে মনে করছেন।

Side banner
Link copied!