দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে তড়িঘড়ি করে প্রশাসক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব এবং জনগণের ওপর ‘ভয়ের রাজত্ব’ কায়েমের অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একইসঙ্গে দলটি আসন্ন প্রতিটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশগ্রহণের জোর প্রস্তুতি ঘোষণা করেছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন এনসিপির শীর্ষ নেতারা।
সাংবাদিক সম্মেলনে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, আমরা দেখেছি খুব তড়িঘড়ি করে ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যেখানে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকার কথা, সেখানে হেরে যাওয়া প্রতিনিধিদের ‘প্রাইজ পোস্টিং’ করেছে বর্তমান সরকার।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত দুই দিন ধরে পুলিশের মাধ্যমে ভয়ের রাজত্ব কায়েম করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আসিফ মাহমুদের মতে, সরকার এর মাধ্যমে জনগণকে ভয়ের বার্তা দিচ্ছে। আমরা এটিকে সমর্থন করি না। সরকার যেভাবে আন্দোলন দমানোর কথা বলছে, এ ধরনের অ্যাপ্রোচ আমরা আওয়ামী লীগের সময়ে দেখেছিলাম।
নিজের প্রার্থিতা নিয়ে আসিফ মাহমুদ জানান, দল থেকে তাকে প্রাথমিকভাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থী হতে বলা হয়েছে, তবে এটি এখনও চূড়ান্ত নয়। প্রকৌশলী ইশরাকের সঙ্গে কোনো দ্বৈরথ আছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, কারও সঙ্গে আমার কোনো দ্বৈরথ নেই, যে কেউ নির্বাচন করতে পারে।
দলের অন্যতম নেতা ও দেশের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ বলেন, নির্বাচনে কারচুপির পরও তাদের ছয় জন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের দিন তিনি ও তার স্ত্রী হামলার শিকার হয়েছেন এবং হাতিয়ায় এখনও হামলা চলমান। তিনি ঘোষণা দেন, এনসিপি আগামী প্রতিটি স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেবে। প্রতিটি সিটি করপোরেশন, ওয়ার্ড ও পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থীদের আমরা প্রস্তুত করবো।
এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম বলেন, এনসিপি এখন দেশের তৃতীয় প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। আমরা আগামীতে একটি নতুন গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে যাচ্ছি।
তিনি আরও জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহের মাঝেই প্রতিটি সাংগঠনিক অঞ্চলে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটের বিষয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এনসিপি ও জামায়াত এককভাবে স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। শেষ সময়ে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জোটকেন্দ্রিক নির্বাচন হবে কি না।
কালের সমাজ/এসআর


আপনার মতামত লিখুন :