প্রতি বছর এই সময়ে জাটকার নিরাপদ বিচরণ ও ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল এলাকা থেকে চর আলেকজেন্ডার পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার নদী এলাকায় জাল ফেলা, মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত ও পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবে।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কমপক্ষে এক বছর থেকে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডের প্রজ্ঞা রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার কারণে জেলার ৪০ হাজারেরও বেশি নিবন্ধিত জেলে বর্তমানে বিপাকে পড়েছেন। সরকার জেলেদের জন্য ৪০ কেজি করে চার কিস্তিতে মোট ১৬০ কেজি চাল সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে জেলেরা বলছেন, সংসারের খরচের সঙ্গে মিলিয়ে এটি যথেষ্ট নয়। তারা চাইছেন সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো হোক এবং নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে এনজিও ঋণের কিস্তি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হোক।
নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় অনেক জেলে ইতোমধ্যেই নৌকা ও জাল মেরামতের কাজ শুরু করেছেন। তারা জানিয়েছেন, বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় দুই মাস পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। চাঁদপুর সদরের মেঘনা পাড়ের জেলে মুকবুল মাঝি ও সাইফুল ইসলাম বলেন, “সরকার আমাদের যেই চাল দেয়, তা দিয়ে সংসার চলে না। চালের সঙ্গে তেল, নুন, তরিতরকারির খরচ কে দিবে। আমরা চাই সরকার সহায়তা বাড়াক।”
জেলেরা আরও দাবি করেছেন, দুই মাস তাদের ধারদেনা কিস্তি স্থগিত রাখলে সুবিধা হবে। “মাছ ধরা শুরু হলে কিস্তি দিয়ে দেব। এখন ইনকাম নেই, তাই দেওয়া সম্ভব নয়।”
জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, “জাটকা সংরক্ষণে সরকার কঠোর অবস্থানে আছে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলেদের সহযোগিতা ছাড়া অভিযান সফল হবে না।” তিনি আরও জানান, সরকারি ৪০ কেজি চালের প্রণোদনা অনুযায়ী দেওয়া হবে। তবে চাঁদপুর সদর, হাইমচর ও মতলব উত্তরের সাড়ে ৮ হাজার জেলের জন্য চালের সঙ্গে অন্যান্য খাদ্য সহায়তা রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :