স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্যে এসব অপরাধ সংঘটিত হলেও বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যকর কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে অনেকেই বিষয়টি অস্বীকার করার চেষ্টা করেন, যেন এমন কোনো ঘটনাই ঘটছে না।
স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট বিটের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে স্থানীয় কাঠ পাচারকারীদের মাসিক কিংবা প্রজেক্টভিত্তিক চুক্তির মাধ্যমেই এই অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গাছবাহী গাড়ি থেকে টাকা তোলার জন্য বেতনভুক্ত দালালও সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি জানান, কাঠবোঝাই গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রে তিন ধরনের চাঁদা নেওয়া হয়—উত্তর বন বিভাগের জন্য, স্থানীয় থানা পুলিশের জন্য এবং কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার নামে।
ফটিকছড়ি উপজেলা জুড়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি কাঠ কেটে ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, প্রতিদিন অন্তত ৫০টির বেশি চাঁদের গাড়ি ও ট্রাকে করে এসব কাঠ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দেশের নানা স্থানে পাঠানো হয়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফটিকছড়ি উপজেলায় প্রায় ৩২০ বর্গকিলোমিটার বনাঞ্চল রয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিয়নে সামাজিক বনায়ন ও ব্যক্তিমালিকানাধীন বাগানও আছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, সংরক্ষিত বনাঞ্চলসহ এসব এলাকা থেকে অবাধে গাছ কেটে নিচ্ছে একশ্রেণির কাঠ ব্যবসায়ী। মূলত উপজেলার অর্ধশতাধিক ইটভাটায় জ্বালানির চাহিদা মেটাতেই এসব গাছ কাটা হচ্ছে।
কাঠ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কয়েকজন জানান, প্রতিদিন কয়েক হাজার মণ জ্বালানি কাঠ উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হয়। তাদের দাবি, ভুজপুর, হেঁয়াকো, নারায়ণহাট, মির্জারহাট, কাঞ্চননগর, শোভনছড়ি, হাজারিখীল ও সর্তা এলাকা থেকে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে কাজিরহাট–নাজিরহাট সড়ক এবং খাগড়াছড়ি সংযোগ সড়কের বিবিরহাট–নাজিরহাট সড়কটি কাঠ পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।
কালের সমাজ/কে.পি

