পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় মাথা বিচ্ছিন্ন লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দুই প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। শনিবার (১৪ মার্চ) পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেফতার করে
র্যাব সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের পূর্ব সারেংকাঠি গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মামুন মোল্লার ইটভাটার দক্ষিণ পাশে সন্ধ্যা নদীর তীর থেকে একটি মাথা বিচ্ছিন্ন লাশ উদ্ধার করা হয়। ইটভাটার শ্রমিকরা নদীর তীরে গলাকাটা লাশটি দেখতে পেয়ে নেছারাবাদ থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে এবং ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে ছায়া তদন্ত শুরু করে।
আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও তদন্তের মাধ্যমে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহত ব্যক্তি গোপাল চন্দ্র দাস (৪২), তিনি বরিশাল জেলার বিমানবন্দর থানার গণপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
তদন্তে পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, একটি মোটরসাইকেলে তিন ব্যক্তি ইটভাটায় প্রবেশ করেন এবং কিছু সময় পর দুইজন বের হয়ে যান। পরে তদন্তে মোটরসাইকেলে থাকা তিনজনের মধ্যে একজন নিহত গোপাল চন্দ্র দাস এবং অন্য দুইজন তরিকুল ইসলাম সরদার সম্রাট (৩৪) ও আবেদীন মাঝি (৪২) ওরফে রাজু বলে শনাক্ত করা হয়। তরিকুল ইসলাম বরিশাল জেলার বিমানবন্দর থানার গণপাড়া এলাকার এবং আবেদীন মাঝি পিরোজপুর সদর উপজেলার দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দা।
র্যাব জানায়, র্যাব-৮ সিপিএসসি বরিশালের গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্তের ভিত্তিতে এবং র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা পরিদপ্তরের সহায়তায় র্যাব ও পুলিশের একটি যৌথ দল শনিবার দুপুর ২টার দিকে বরিশাল জেলার বিমানবন্দর থানার কাশিপুর চৌমাথা গণপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তরিকুল ইসলাম সরদার সম্রাটকে গ্রেফতার করে। একই দিন সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে বরিশাল কোতোয়ালি থানার স্টিমারঘাট এলাকা থেকে আবেদীন মাঝি ওরফে রাজুকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে অভিযুক্তরা মোটরসাইকেলে করে ভিকটিমকে ইটভাটায় নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথা বিচ্ছিন্ন করে নদীতে ফেলে দেয়। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি হাতুড়ি ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পিরোজপুরের নেছারাবাদ থানায় হত্যা মামলা (নং-১০, তারিখ: ১৪ মার্চ ২০২৬) দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের রবিবার (১৫ মার্চ) বিফ্রি শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার।
কালের সমাজ/কে.পি

