রোজা এলেই দেশে খেজুরের চাহিদা বেড়ে যায়। এ সময় সৌদি বাদশাহর মানবিক সহায়তা তহবিল থেকে বাংলাদেশ সরকারকে উপহার হিসেবে খেজুর প্রদান করা একটি নিয়মিত ঘটনা। প্রতিবছরই এই উপহার খেজুর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই খেজুর বিতরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের বিভ্রান্তি ও সমালোচনা দেখা যাচ্ছে, যার বেশিরভাগই বাস্তব তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
প্রকৃতপক্ষে এই খেজুর বিতরণের একটি নির্দিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে। সৌদি সরকারের দেওয়া খেজুর বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে আসে। সেখান থেকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শর্তসাপেক্ষে উপজেলা পর্যায়ে উপ-বরাদ্দ দেওয়া হয়।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার দরিদ্র মানুষ, এতিমখানা, হাফেজিয়া মাদ্রাসা এবং লিল্লাহ বোর্ডিংগুলোতে তা বিতরণের ব্যবস্থা করেন। এ কার্যক্রম পরিচালনায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (PIO) অফিস দায়িত্ব পালন করে এবং পুরো প্রক্রিয়ার হিসাব সংরক্ষণ করা হয় অডিটের জন্য।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই বরাদ্দের পরিমাণ খুবই সীমিত। সাধারণত একটি উপজেলার জনসংখ্যা ও দারিদ্র্যের হার বিবেচনায় মাত্র ১৫০ থেকে ৪০০ প্যাকেট খেজুর বরাদ্দ পাওয়া যায়, যেখানে প্রতিটি প্যাকেটের ওজন ১ কেজি। একটি কার্টনে থাকে ১ কেজির ৮টি প্যাকেট। বাস্তবতায় দেখা যায়, অনেক মাদ্রাসা বা এতিমখানায়ই কয়েকশ শিক্ষার্থী থাকে। সেই হিসাবে পুরো উপজেলার সব প্রতিষ্ঠানে সমানভাবে খেজুর বিতরণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। বরং জনপ্রতি ১ কেজি করে দিলে সর্বোচ্চ দুই-তিনটি প্রতিষ্ঠানেই সেই বরাদ্দ শেষ হয়ে যেতে পারে।
তবুও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে এমনভাবে আলোচনা হচ্ছে যেন হাজার হাজার মানুষের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, অথচ তা সঠিকভাবে বিতরণ করা হয়নি। এই ধরনের অনুমাননির্ভর মন্তব্য অনেক সময় স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এমনকি সংসদ সদস্যদের অকারণ সমালোচনার মুখে ফেলে দেয়।
বাস্তবে ত্রাণসামগ্রীর বরাদ্দ এলেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্থানীয় মাননীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত করেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সংসদ সদস্যরা প্রশাসনকে বিধিমোতাবেক বিতরণের জন্য নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। কারণ, সরাসরি বিতরণে জড়ালে বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার কারণে যারা বঞ্চিত হবে, তাদের অসন্তোষও রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্টদের ওপরই পড়তে পারে।
সবশেষে বলতে হয়, আমরা অনেক সময় তথ্য যাচাই না করেই আবেগের বশে মন্তব্য করে বসি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া অনেক কনটেন্টই বাস্তবতার পুরো চিত্র তুলে ধরে না। ফলে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং অকারণ বিতর্কের জন্ম নেয়।
খেজুর বিতরণ নিয়ে সমালোচনা থাকতেই পারে, তবে সেটি হওয়া উচিত তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল। কারণ, সীমিত বরাদ্দের মধ্যেও প্রশাসনের লক্ষ্য থাকে অন্তত কিছু অসহায় মানুষের মুখে রমজানের সময়টুকু একটু মিষ্টি হাসি ফোটানো।
শেষ কথা হলো..জাতি হিসেবে আমরা ভেরি ইমোশনাল ইজলি ব্যায়াসড, ভাইরাল এন্ড চীপ পপুলিস্ট কনটেন্ট দ্বারা আক্রান্ত। ভিউ ব্যবসায়ীদের বাজিমাত

