ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ফেনীতে মাসুম হত্যা মামলা

শেখ হাসিনাসহ ১৭৮ আসামির বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি

বিশেষ প্রতিনিধি | জুন ১৪, ২০২৬, ১২:০৪ পিএম শেখ হাসিনাসহ ১৭৮  আসামির বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি
ফাইল ছবি

ফেনীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থী মাহবুবুল হাসান মাসুম হত্যার মামলায় আত্মগোপনে থাকা ১৭৮ জন আসামিকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী।

শনিবার (১৩ জুন) একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ফেনীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ছালামাত উল্লাহ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৮৭ ও ৮৮ ধারার অধীনে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। আদালতের কাছে বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে, তারা গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছেন এবং তাদের দ্রুত গ্রেফতারের সম্ভাবনাও নেই।

এ অবস্থায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯-বি(১) ধারার ক্ষমতাবলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজির না হলে তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ফেনীর মহিপালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ১৬২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়।

২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর নিহত মাহবুবুল হাসান মাসুমের ভাই মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান ফেনী মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই ফেনী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন ২২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলি আদালতের বিচারক মোহাম্মদ হাসান অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে শেখ হাসিনাসহ ১৭১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল, সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল, দিদারুল কবির রতন, নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সাজেল, রফিকুল ইসলাম খোকন, মো. মোস্তফা, জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন, সাইফুল ইসলাম পিটু, জিয়া উদ্দিন বাবলু ও জালাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী পাপ্পুসহ আরও অনেকে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় গুলি চালানোর জন্য প্ররোচনা, উসকানি ও নির্দেশনা দেওয়ার সঙ্গে আসামিরা জড়িত ছিলেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৫১ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কয়েকজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। তবে চার্জশিটভুক্ত কয়েকজন আসামির জামিন পাওয়ার ঘটনায় শহীদ পরিবার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফেনীর মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচি চলাকালে সংঘর্ষে ছাগলনাইয়ার আবদুল হক চৌধুরী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী মাহবুবুল হাসান মাসুম গুলিবিদ্ধ হন। তার মাথা, বুক ও পিঠে গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ আগস্ট সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।

সেদিনের সহিংসতায় ফেনীতে মোট নয়জন নিহত হন।

কালের সমাজ/এএইচবি 

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!