এক সময় দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বোচ্চ পদে আসীন ছিলেন বেনজীর আহমেদ। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র্যাবের মহাপরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। অথচ সেই ব্যক্তিকেই আজ দুর্নীতির মামলায় আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতায় দুবাইয়ে গ্রেফতার হতে হয়েছে। এটি শুধু একজন ব্যক্তির পতনের ঘটনা নয়; বরং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির ভয়াবহ পরিণতির একটি জ্বলন্ত উদাহরণ।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযোগ অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ৭৪ কোটি টাকারও বেশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থেকে যদি কেউ নিজের ক্ষমতাকে ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন, তবে তা শুধু আইনভঙ্গই নয়, রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, যিনি আইন প্রয়োগের দায়িত্বে ছিলেন, তার বিরুদ্ধেই আইন লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একজন সাধারণ নাগরিকের জন্য যে আইন প্রযোজ্য, রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্যও সেই একই আইন সমানভাবে কার্যকর—বেনজীর আহমেদের গ্রেফতার সেই বার্তাই আবারও স্পষ্ট করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে দেশে ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও অনেক ক্ষেত্রে সুষ্ঠু বিচার নিয়ে প্রশ্ন ছিল। কিন্তু ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি এবং বিদেশে গ্রেফতারের ঘটনা প্রমাণ করে যে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে পালিয়ে থাকলেই দায়মুক্তি পাওয়া যায় না। দেশের সীমানা পেরিয়ে গেলেও আইনের হাত শেষ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
এই ঘটনা দেশের প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা। রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদে থেকে কেউ যদি ব্যক্তিগত স্বার্থে ক্ষমতার অপব্যবহার করেন, তাহলে একদিন না একদিন তাকে আইনের মুখোমুখি হতেই হবে। বেনজীর আহমেদের গ্রেফতার সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন।
জনগণ এখন প্রত্যাশা করে, এই মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের অবস্থান আরও দৃঢ় হবে এবং ভবিষ্যতে কেউ যেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলতে না পারে, সে জন্য কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা হবে।
কালের সমাজ/এএইচবি

