আগামী ১৮ জুন ২০২৬ থেকে সারা দেশের ৬৪টি জেলা এবং ৭৪টি প্রত্যন্ত ও বিশেষায়িত উপজেলায় একযোগে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে ‘নজরুল বর্ষ’র উদ্বোধনী কার্যক্রম।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আগামী ১৮ থেকে ২০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত দেশব্যাপী এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
রোববার (১৪ জুন) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলি নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ও সচিব কানিজ মওলাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতি মন্ত্রী জানান, গত ২৩ মে ২০২৬ তারিখে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৫ মে ২০২৬ হতে ২৫ মে ২০২৭ পর্যন্ত সময়কালকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এ ঐতিহাসিক ঘোষণাকে সফল ও সার্থক করতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানসমূহ সুচারুভাবে আয়োজনের জন্য চলতি অর্থ বছরের বাজেট হতে দেশের প্রতিটি জেলা ও নির্দিষ্ট উপজেলায় ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত ১৭ বছর বাংলা সাহিত্যে ও জাতীয় জীবনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসামান্য অবদান ও দর্শনকে যথাযথভাবে ও মর্যাদার সাথে উপস্থাপন করা হয়নি। অথচ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের ইতিহাসে নজরুলের চেতনা সবসময় আমাদের অন্যতম প্রধান শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করেছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার সময়েও জাতীয় কবির সাহিত্যকর্ম ও দর্শন প্রসারে অভূতপূর্ব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার কবি নজরুলের সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বদ্ধপরিকর।
সংবাদ সম্মেলনে ‘নজরুল বর্ষ’ (২৫ মে ২০২৬ হতে ২৫ মে ২০২৭) উদযাপনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় গৃহীত মূল কর্মপরিকল্পনাসমূহ তুলে ধরা হয়-
১. জাতীয় কমিটি গঠন: জাতীয় পর্যায়ে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণভাবে নজরুল বর্ষ পালনের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি গঠন করা হচ্ছে।
২. লোগো ও পোস্টার প্রকাশ: নজরুল বর্ষের স্মারক হিসেবে একটি অনন্য ও দৃষ্টিনন্দন অফিসিয়াল লোগো এবং পোস্টার তৈরি করা হচ্ছে।
৩. বিশেষ ক্যালেন্ডার ও ডাকটিকিট: বছরটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ‘নজরুল বর্ষ ক্যালেন্ডার’ প্রণয়ন এবং ডাক বিভাগের মাধ্যমে ‘স্মারক ডাকটিকিট’ প্রকাশ করা হবে।
৪. গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ: নজরুল বর্ষ উদযাপন শুধু উৎসব-অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; কবির সাহিত্যকর্ম, দর্শন ও সঙ্গীত নিয়ে উচ্চতর গবেষণা ও আর্কাইভ সৃষ্টির জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
৫. আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্প্রসারণ: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতে নজরুলের কালজয়ী সৃষ্টি ও দর্শনকে অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলামের সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক জীবনদর্শন আজকের বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। এ ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সফল করতে আমরা দেশের আপামর জনসাধারণ, বুদ্ধিজীবী মহল এবং সম্মানিত সাংবাদিক ভাই-বোনদের আন্তরিক সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করছি।
কালের সমাজ//আর আই

