ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
অযৌক্তিক অ্যান্টিবায়োটিক

অযৌক্তিক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার রোধে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি: প্রতিমন্ত্রী টুকু

নিজস্ব প্রতিবেদক | জুন ১৪, ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম অযৌক্তিক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার রোধে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি: প্রতিমন্ত্রী টুকু
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে মানুষ ও প্রাণীর স্বাস্থ্যের জন্য অযৌক্তিকভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রবণতা রোধে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মাল্টি-পার্টনার ট্রাস্ট ফান্ড (এএমআর এমপিটিএফ) প্রকল্পের সহযোগিতায় আয়োজিত ভেটেরিনারি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্টুয়ার্ডশিপ গাইডলাইন (ভিএজি) বাস্তবায়ন বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালা-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অ্যান্টিবায়োটিকের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। একইভাবে প্রাণিসম্পদ খাতেও এর অপব্যবহার দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

তিনি বলেন, প্রান্তিক খামারিদের অনেকেই তাৎক্ষণিকভাবে রোগ নিরাময়ের আশায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করেন। তবে এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে তাদের পর্যাপ্ত সচেতনতা নেই। এ কারণে সচেতনতার ঘাটতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে হবে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদেরও এ বিষয়ে তদারকি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

তিনি বলেন, ভেটেরিনারি চিকিৎসক, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং খামারিদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর চেইন গড়ে তোলা গেলে বরিশালের মতো সাফল্য দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও অর্জন সম্ভব হবে। তিনি নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ও বাংলাদেশের প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ডা. মো. বয়জার রহমান।

কর্মশালায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্টুয়ার্ডশিপ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থার (ডঙঅঐ) জাতীয় এএমআর পরামর্শক ড. মো. হাবিবুর রহমান। এছাড়া অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর), ওয়ান হেলথ এবং দায়িত্বশীল অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ব্যবহারের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা, খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
কালের সমাজ/এএইচবি 

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!