দেশের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ এবং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে বেগবান করার ক্ষেত্রে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিশাল কর্মযজ্ঞকে গতিশীল, কার্যকর ও ফলাফলমুখী করতে প্রয়োজন দূরদর্শী পরিকল্পনা, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত, দক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা। প্রধান প্রকৌশলী মোঃ মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে অধিদপ্তরের উন্নয়ন কার্যক্রম, প্রকল্প পরিবীক্ষণ, নীতি নির্ধারণ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় এসব বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে প্রকৌশল কার্যক্রম পরিচালনার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি প্রকল্পের বাস্তব সমস্যা চিহ্নিতকরণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখছেন। উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন- বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর উদ্যোগ অধিদপ্তরের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার প্রচেষ্টার প্রতিফলন। তার দায়িত্বগ্রহণের দুই তিন মাসের মধ্যে বেশ কয়টি প্রকল্প একনেক হতে অনুমোদন হয়েছে। সরকারী ক্রয় কমিটির সভায় অনেক দরপত্র অনুমোদন হয়েছে।
বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট প্রকল্পের প্রতিবন্ধকতা নিরসনে উদ্যোগ
সওজের বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নে ভূমি অধিগ্রহণ, প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়। এসব প্রকল্পের সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং সমাধানের পথ নির্ধারণে প্রধান প্রকৌশলী বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এছাড়াও প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত পরিবীক্ষণ, সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব নির্ধারণ এবং সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে বাস্তবায়ন কার্যক্রমকে লক্ষ্যমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ভূমি অধিগ্রহণজনিত প্রতিবন্ধকতা নিরসন এবং প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতির সঙ্গে নির্ধারিত সময়সীমার সামঞ্জস্য রক্ষায় টাইম-বাউন্ড অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।
নীতি নির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে গতিশীলতা
অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও প্রশাসনিক বিষয়ে সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভা আহ্বান এবং নীতি নির্ধারণে কার্যকর উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এসব সভার মাধ্যমে অগ্রাধিকার নির্ধারণ, সমস্যা পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়। প্রধান প্রকৌশলী মোঃ মনিরুজ্জামান এই সভাকে অগ্রে বিবেচনা করে ইতিমধ্যে সভা আহবানপূর্বক নীতি নির্ধারণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। শুধু সিদ্ধান্ত গ্রহণেই সীমাবদ্ধ না থেকে সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের অগ্রগতি অনুসরণ করার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন। এর ফলে প্রশাসনিক ও প্রকল্পসংক্রান্ত কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা কমানো এবং সময়োপযোগী সমাধান নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা জোরদার হচ্ছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে ও মাল্টি-মোডাল হাব পরিকল্পনা
দেশের প্রধান অর্থনৈতিক করিডরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতের পরিবহন চাহিদা মোকাবিলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ কার্যক্রম ত্বরান্বিতকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এ ধরনের বৃহৎ অবকাঠামো পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কারিগরি সম্ভাব্যতা, অর্থায়ন, ভূমি অধিগ্রহণ, পরিবেশগত বিবেচনা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে এর কাজ এগিয়ে চলেছে। একই সঙ্গে মাল্টি-মোডাল হাব পরিকল্পনার মাধ্যমে বিভিন্ন পরিবহনব্যবস্থার মধ্যে কার্যকর সংযোগ প্রতিষ্ঠা এবং যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের দক্ষতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। এসব উদ্যোগ দেশের দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে।
দ্বীপ জেলা ভোলা কে সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্তকরণ
প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তাঁর গতিশীল নেতৃত্বে সড়কপথে যুক্ত হচ্ছে দ্বীপ জেলা ভোলা। গত ২২ আগস্ট তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় ভোলার সঙ্গে ঢাকা ও বরিশালের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে তিনটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত বরিশাল (রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা) রুটটি বেছে নেওয়া হয়েছে।
নতুন প্রকল্প প্রণয়ন ও সড়ক নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ
সড়ক নেটওয়ার্কের বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা দূর করা এবং ভবিষ্যৎ চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবকাঠামো গড়ে তুলতে নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের ধারণা প্রণয়ন ও ডিপিপি প্রস্তুতকরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে নতুন প্রকল্প প্রণয়ন, ডিও লেটারের ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ এবং সড়ক নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে বিভিন্ন স্কিম গ্রহণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
পরিকল্পিতভাবে প্রকল্প চিহ্নিতকরণ, অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং বাস্তবায়নযোগ্য উন্নয়ন প্রস্তাব তৈরির মাধ্যমে সড়ক অবকাঠামোর সামগ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা, অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা, সম্ভাব্য সুফল এবং রক্ষণাবেক্ষণের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
পিএমপি কার্যক্রমের গুণগত মান ও অগ্রগতি পরিবীক্ষণ
সড়ক নেটওয়ার্কের স্থায়িত্ব, ব্যবহারযোগ্যতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পিরিয়ডিক মেইনটেন্যান্স প্রোগ্রাম (পিএমপি)-এর কাজের গুণগত মান এবং বাস্তব অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পরিবীক্ষণ করা প্রয়োজন। এ ধরনের কার্যক্রমে কাজের মান, নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন এবং বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সড়কের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সময়মতো রক্ষণাবেক্ষণ এবং মানসম্মত কাজের বিকল্প নেই।প্রধান প্রকৌশলী কমিটি গঠন করে নিয়মিত তদারকি এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব অবস্থা পর্যালোচনার মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমকে আরও ফলাফলমুখী করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
দীর্ঘদিনের বিআরটি প্রকল্প: সমাপ্তি ও পরবর্তী করণীয়
দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত বিআরটি প্রকল্পের সমাপ্তি এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনাগত বিষয়। এ ধরনের প্রকল্পের ক্ষেত্রে অবশিষ্ট কাজ, পরিচালনাগত প্রস্তুতি, নিরাপত্তা, সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয় এবং জনসাধারণের জন্য কার্যকর সেবা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রধান প্রকৌশলী মোঃ মনিরুজ্জামান মাননীয় প্রধান মন্ত্রী সাথে তিন দফা বৈঠক করে বিষয়টি সূরাহা করেন।
ঢাকা শহরের যানযট নিরসনে ভুমিকা
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ঢাকা শহরের যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দফায় দফায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সভায় প্রধান প্রকৌশলী মহোদয় বৈঠকে ঢাকা মহানগরীর চলমান যানজট পরিস্থিতি, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফ্লাইওভারে যানবাহনের চাপ, গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা, বাস টার্মিনাল পুনর্বিন্যাস, পার্কিং ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন নিয়ে তাঁর সুপারিশসমূহ ব্যক্ত করেন। তিনি এক্সপ্রেসওয়ে ও ফ্লাইওভারের টোল প্লাজাগুলোতে ইটিসি (ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন) সিস্টেম চালুর পরামর্শ প্রদান করেন। এছাড়া বিআরটি করিডোরের বিকল্প রুট হিসেবে ধওর-কড্ডা-শাল্লা মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। উত্তরাঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি কমাতে চন্দ্রাতে ইন্টারসেকশন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এছাড়া পিপিপি এর আওতায় জয়দেবপুর ময়মনসিংহ রুট ৬ লেনে উন্নীতকরণ এবং ঢাকা বাইপাস প্রকল্পের আওতায় জয়দেবপুর ইন্টারসেকশনে উড়াল স্থাপনা নির্মাণ কাজের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
প্রকিউরমেন্ট ও ফাইল নিষ্পত্তিতে স্বচ্ছতা ও সময় সাশ্রয়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন
উন্নয়ন প্রকল্পের সময়মতো বাস্তবায়নের সঙ্গে প্রকিউরমেন্ট কার্যক্রমের লিড টাইম এবং দাপ্তরিক ফাইল নিষ্পত্তি সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। দরপত্র আহ্বান থেকে চুক্তি সম্পাদন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে প্রযোজ্য আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে অযথা বিলম্ব কমানো প্রকল্প ব্যবস্থাপনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। প্রধান প্রকৌশলী স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা, ন্যায্যতা ও জবাবদিহি বজায় রাখার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়সীমা অনুসরণপূর্বক প্রকিউরমেন্ট লিড টাইম হ্রাস, ফাইল প্রসেসিং দ্রুতকরণ এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গতিশীলতা আননয়ের জন্য নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
সড়ক উন্নয়নের রোডম্যাপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
দেশের সড়ক নেটওয়ার্কের উন্নয়নকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আনা এবং অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে সওজের রোডম্যাপ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ উদ্যোগকে এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনাগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। এ ধরনের রোডম্যাপের মাধ্যমে সড়ক অবকাঠামোর ভবিষ্যৎ চাহিদা, গুরুত্বপূর্ণ করিডরের উন্নয়ন, নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সম্পদের অগ্রাধিকারভিত্তিক ব্যবহার সম্পর্কে সমন্বিত দিকনির্দেশনা তৈরি করা সম্ভব।
দক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা
একটি বৃহৎ সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা শুধু উন্নয়ন প্রকল্পের ওপর নির্ভর করে না; দক্ষ মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, শৃঙ্খলা, কর্মপরিবেশ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমস্যার যথাযথ সমাধানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রধান প্রকৌশলী মোঃ মনিরুজ্জামানের প্রশাসনিক কার্যক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন এবং তাঁদের সমস্যা ও মতামত শোনার উদ্যোগ। সুশৃঙ্খলভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি, ব্যক্তিগতভাবে তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলাপ-আলোচনা এবং সমস্যা সমাধানে মনোযোগী হওয়ার মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে পারস্পরিক যোগাযোগ ও প্রশাসনিক সমন্বয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়। প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি স্তরের কর্মীর কথা শোনা এবং বাস্তবসম্মত সমাধানের চেষ্টা একটি কার্যকর ও মানবিক প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
মাঠপর্যায়ে বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিফলন
মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা থাকলে দাপ্তরিক সিদ্ধান্তকে বাস্তবসম্মত করা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে উদ্ভূত প্রতিবন্ধকতা দ্রুত চিহ্নিত করা সহজ হয়। এ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে আরও কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। প্রধান প্রকৌশলীর দীর্ঘ মাঠপর্যায়ের প্রকৌশল অভিজ্ঞতা প্রকল্পের বাস্তব সমস্যা অনুধাবন, কারিগরি বিষয় মূল্যায়ন এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। ছুটির দিনেও সড়ক জোন ও প্রকল্প পরিদর্শন করে সরেজমিনে সমস্যা পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান এবং সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি তাঁর কর্মতৎপরতার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে উঠে এসেছে।
সততা, স্বচ্ছতা ও পেশাদারত্ব
সরকারি অবকাঠামো উন্নয়নে প্রকল্প প্রণয়ন, বাস্তবায়ন এবং ক্রয় কার্যক্রমে সততা, স্বচ্ছতা ও পেশাদারত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রধান প্রকৌশলী মোঃ মনিরুজ্জামান প্রকল্প প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও টেন্ডারসংক্রান্ত কার্যক্রমে অনিয়মের বিষয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছেন। তাঁর কর্মজীবন সম্পর্কে তাঁর বিরুদ্ধে পত্র পত্রিকায় অভিযোগ কোন অভিযোগ উত্থাপণের নজির নেই।
সর্বোপরি প্রধান প্রকৌশলী মোঃ মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিতকরণ, প্রকল্প পরিবীক্ষণ, নীতি নির্ধারণ, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং মাঠপর্যায়ের সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উঠে এসেছে। বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট প্রকল্পের প্রতিবন্ধকতা নিরসন, নতুন প্রকল্প প্রণয়ন, সড়ক নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ, পিএমপি কার্যক্রমের মানোন্নয়ন এবং প্রকিউরমেন্ট ও ফাইল নিষ্পত্তিতে গতিশীলতা আনার প্রচেষ্টা অধিদপ্তরের কার্যক্রমকে আরও ফলাফলমুখী করার সম্ভাবনা তৈরি করছে। এসব উদ্যোগের বাস্তব ফলাফল যথাযথ পরিবীক্ষণ, স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ এবং জবাবদিহির মাধ্যমে মূল্যায়িত হলে অধিদপ্তরের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা আরও সুসংহত হবে। দেশের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থাকে নিরাপদ, টেকসই ও আধুনিক করার লক্ষ্যে পরিকল্পিত উদ্যোগ এবং সমন্বিত প্রচেষ্টাই হবে এ অগ্রযাত্রার মূল ভিত্তি।
কালের সমাজ/এসআর

