ঢাকা সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

বান্দরবানে ছুটির ১১ দিনেও থামেনি পাঠদান, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে প্রধান শিক্ষক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

জেলা প্রতিনিধি, বান্দরবান | অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম বান্দরবানে ছুটির ১১ দিনেও থামেনি পাঠদান, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে প্রধান শিক্ষক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

পার্বত্য জেলার বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা ১১ দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদান বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন মংচিং হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আবচার। ছুটির অবসরেও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ধরে রাখা এবং বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া শিশুদের শেখার ঘাটতি পূরণে তিনি সহকর্মীদের নিয়ে কাজ করছেন। শিক্ষকদের এমন আন্তরিক উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা।

সাধারণত বিদ্যালয়ে ছুটি থাকলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষভিত্তিক পাঠদান বন্ধ থাকে। দীর্ঘ ছুটিতে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনার চর্চা থেকে দূরে সরে যায়। বিশেষ করে যেসব শিশু ইতিমধ্যে পড়াশোনায় পিছিয়ে রয়েছে, নিয়মিত অনুশীলনের অভাবে তাদের শেখার ঘাটতি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখা এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের বাড়তি সহযোগিতা প্রদানে উদ্যোগী হয়েছেন প্রধান শিক্ষক নুরুল আবচার।এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে তাঁর সঙ্গে সহযোগিতা করছেন সহকারী শিক্ষক মরিয়ম আক্তার, সহকারী শিক্ষক সুলতান মাহমুদ (মাসুম) এবং প্যারা শিক্ষক আইমন জান্নাত। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া, নিয়মিত পড়াশোনায় উৎসাহিত করা এবং শেখার ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা শিশুদের এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে তাঁরা সম্মিলিতভাবে কাজ করছেন।শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষার স্তরেই একটি শিশুর ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের ভিত্তি নির্মিত হয়। এ সময়ে নিয়মিত অনুশীলন, শিক্ষকদের আন্তরিকতা, যথাযথ দিকনির্দেশনা এবং অভিভাবকদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো বিষয়ে দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি বাড়তি মনোযোগ দেওয়া হলে তাদের শেখার ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়। মংচিং হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এ উদ্যোগ সেই দায়িত্ববোধেরই প্রতিফলন।

ছুটির মধ্যেও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ধরে রাখার উদ্যোগ সম্পর্কে প্রধান শিক্ষক নুরুল আবচার বলেন, “ছুটির কারণে যেন কোনো শিক্ষার্থী পড়াশোনা থেকে পিছিয়ে না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। বিশেষ করে যারা পড়াশোনায় দুর্বল, তাদের বাড়তি সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও অভিভাবকদের সহযোগিতা থাকলে ছুটির সময়েও শেখার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব।সহকারী শিক্ষক মরিয়ম আক্তার, সুলতান মাহমুদ (মাসুম) ও প্যারা শিক্ষক আইমন জান্নাতও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং পিছিয়ে পড়া শিশুদের সহযোগিতার বিষয়ে তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তাঁদের মতে, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অনুশীলনে উৎসাহিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা দেওয়া গেলে পড়াশোনার প্রতি তাদের আগ্রহ আরও বাড়ানো সম্ভব।এ উদ্যোগের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও কথা বলা হয়। ছুটির মধ্যে পড়াশোনা করতে তাদের কেমন লাগছে, শিক্ষকেরা কীভাবে সহযোগিতা করছেন এবং পড়াশোনার প্রতি তাদের আগ্রহ কেমন এসব বিষয়ে তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও মতামত এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব অনুধাবনে সহায়ক ভূমিকা রাখে।শিশুদের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে বিদ্যালয়ের পাশাপাশি পরিবার ও স্থানীয় সমাজেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মংচিং পাড়া কারবারি অংশৈপ্রু মার্মা শিক্ষার গুরুত্ব, শিশুদের ভবিষ্যৎ এবং শিক্ষার প্রসারে স্থানীয় সমাজের দায়িত্ব সম্পর্কে তাঁর মতামত তুলে ধরেন। অন্যদিকে, দুই নারী ও একজন পুরুষ অভিভাবক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় শিক্ষকদের এ উদ্যোগ সম্পর্কে তাঁদের অভিমত জানান। 
তাঁদের বক্তব্যে শিশুদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বজায় রাখা, শিক্ষকদের সহযোগিতা এবং ভবিষ্যতে আরও ভালোভাবে পড়াশোনার  সুযোগ সৃষ্টির প্রত্যাশা প্রতিফলিত হয়। অভিভাবকদের মতে, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি বাড়িতেও শিশুদের পড়াশোনার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে শুধু পাঠ্যবই কিংবা শ্রেণিকক্ষই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা। প্রধান শিক্ষক নুরুল আবচার ও তাঁর সহকর্মীদের এ উদ্যোগ ছুটির মধ্যেও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তবে এ ধরনের উদ্যোগের কার্যকারিতা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে প্রয়োজন নিয়মিত তদারকি, শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং অভিভাবকদের ধারাবাহিক সহযোগিতা।স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের প্রত্যাশা, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হবে। শিক্ষক, পরিবার ও শিক্ষা প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিটি শিশু মানসম্মত শিক্ষা লাভের সুযোগ পাবে, এমন প্রত্যাশাই সংশ্লিষ্ট মহলেররা।

কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!