ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রীর সফর সম্পন্ন: মোংলা বন্দরে হাজারো নেতাকর্মীর ঢল, উপকূলের উন্নয়ন ঘিরে নতুন প্রত্যাশা

কালের সমাজ ডেস্ক | অক্টোবর ২২, ২০২৬, ১০:১৫ পিএম প্রধানমন্ত্রীর সফর সম্পন্ন: মোংলা বন্দরে হাজারো নেতাকর্মীর ঢল, উপকূলের উন্নয়ন ঘিরে নতুন প্রত্যাশা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুলনা ও বাগেরহাট সফরকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় মোংলা বন্দর এলাকায়। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর ২০২৬) দিনব্যাপী সফরে সুন্দরবন ও হিরণ পয়েন্ট এলাকা আকাশপথে পর্যবেক্ষণ, খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান এলাকা পরিদর্শন, মোংলা বন্দর এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘুরে দেখেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে মোংলা বন্দরে হাজারো নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। এ সময় বিভিন্ন স্লোগানে প্রকম্পিত হয় আশপাশের পরিবেশ।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে মোংলা ও আশপাশের এলাকায় আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সংস্কার করা হয় ভাঙাচোরা সড়ক, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় মোংলা বন্দরের জেটি, নৌযান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। পাশাপাশি সফরের বিভিন্ন গন্তব্যে জোরদার করা হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যেও দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

এ সময় মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মোংলা পৌর শাখার সভাপতি মো. জুলফিকার আলী এবং মোংলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদারের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী মোংলা বন্দর এলাকায় জড়ো হন। তাঁদের উপস্থিতিতে বন্দর এলাকায় ব্যাপক জনসমাগমের সৃষ্টি হয়। নেতাকর্মীদের বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে তাঁদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।

সফরসূচি অনুযায়ী, সকালে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে সুন্দরবনের উদ্দেশে যাত্রা করেন। পরে আকাশপথে হিরণ পয়েন্ট ও সুন্দরবন এলাকা পর্যবেক্ষণ শেষে খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করেন। সেখান থেকে নলিয়ানঘাট হয়ে নৌপথে বাগেরহাটের মোংলার উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি।

দুপুরে মোংলার বানীশান্তা জেটি এলাকায় পৌঁছে নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ওয়ার্করুমের সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় যোগ দেন। এরপর মোংলা বন্দরের জেটি পরিদর্শন করেন এবং বন্দরের কার্যক্রম ও অবকাঠামো ঘুরে দেখেন। বিকেলে বেজার প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন শেষে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী, বিকেল ৫টায় ঢাকায় পৌঁছানোর কথা ছিল।

প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে মোংলার দিগরাজ থেকে মোংলা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে ভাঙাচোরা অবস্থায় থাকা সড়কটি মেরামতের কাজ স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করেছে। একইভাবে খুলনার দাকোপ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতেও সংস্কারকাজ চালানো হয়।

সফর নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সফরের নির্ধারিত গন্তব্যগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা হয়।

মোংলা-রামপাল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম এর আগে জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সফর নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তাঁদের আশা, মোংলা বন্দর ও উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টির বিষয়গুলো আরও গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে মোংলা বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বেজার প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাস্তবায়ন এবং উপকূলীয় এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে প্রত্যাশা তাঁদের।

মোংলা বন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং শিল্পায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ করা গেলে স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হওয়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর খুলনা ও বাগেরহাট সফরকে ঘিরে মোংলা ও উপকূলীয় অঞ্চলে উন্নয়ন নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং উপকূলের মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে এ সফর কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!