ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

লামায় প্রবারণা পূর্ণিমায় বৌদ্ধ বিহারে সরকারি খাদ্যশস্য বরাদ্দ না পাওয়ার অভিযোগ

বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি | অক্টোবর ২২, ২০২৬, ১০:১৯ পিএম লামায় প্রবারণা পূর্ণিমায় বৌদ্ধ বিহারে সরকারি খাদ্যশস্য বরাদ্দ না পাওয়ার অভিযোগ

পার্বত্য জেলার বান্দরবানের লামায় সরই ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৭টি বৌদ্ধ বিহারে প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে সরকারি বরাদ্দের খাদ্যশস্য পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে সরই ইউনিয়নের তঞ্চঙ্গ্যা ও ম্রো সম্প্রদায়ের বৌদ্ধ বিহারও রয়েছে।সরই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ঢেঁকিছড়া পাড়ায় অবস্থিত উপসংঘরাজ শাসন স্তম্ভ ধর্মপ্রিয় সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহারের পরিচালনা কমিটির সভাপতি কাইং প্রে ম্রো জানান, প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পক্ষ থেকে এবার তাঁদের বিহারের জন্য কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। ইউএনওর সাথে যোগাযোগ করা হলে তাদের বৌদ্ধ বিহারের নাম  তালিকায় নেই বলে জানানো হয়।

 বিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ঢেঁকিছড়া পাড়ার বাসিন্দা লেং রিং ম্রো জানান, বিহারটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিবছর প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে তাঁদের বিহারে ৫০০ কেজি খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হতো। কিন্তু এবার কোনো খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে তাঁকে জানানো হয়, সরই ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের পাঠানো তালিকায় তাঁদের বিহারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।পার্বত্য ভিক্ষু পরিষদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক উঃ নন্দ মালা থের জানান, লামা উপজেলায় মোট ৭৯টি বৌদ্ধ বিহার রয়েছে। এর মধ্যে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের পাঁচটি এবং সরই ইউনিয়নের দুটি বৌদ্ধ বিহার প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে সরকারি বরাদ্দের খাদ্যশস্য পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তালিকায় বৌদ্ধ বিহারের নাম থাকলেও বরাদ্দের খাদ্যশস্য সংশ্লিষ্ট বিহারের পরিবর্তে ক্রামা ধর্মের বিহারে দেওয়া হয়েছে।এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে গত ১৪ অক্টোবর লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান উঃ নন্দ মালা থের।প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতিবছর বরাদ্দ পাওয়া বিহারগুলো এবার খাদ্যশস্য থেকে বঞ্চিত হলো কেন? তালিকা প্রণয়নে কোনো ধরনের অবহেলা বা সমন্বয়হীনতা ছিল কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব উপলক্ষে সরকারি বরাদ্দের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব বৌদ্ধ বিহারের প্রতি সমান গুরুত্ব দেওয়া এবং অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক এটাই প্রত্যাশা জানায় তারা।

 

কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!