ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

দুই প্রাণহানির পর সেলফি বন্ধ, আগের অভিযোগের নিষ্পত্তি কোথায়?

জেলা প্রতিনিধি,মানিকগঞ্জ | অক্টোবর ২২, ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম দুই প্রাণহানির পর সেলফি বন্ধ, আগের অভিযোগের নিষ্পত্তি কোথায়?

দুই যাত্রীর প্রাণহানির পর ছাত্র-জনতার অবরোধের মুখে মানিকগঞ্জে সেলফি পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক। কিন্তু দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও একাধিক প্রতিবাদ কর্মসূচির পরও কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ৬৪টি রুট পারমিটের বিপরীতে ১৭০টি বাস চলাচল করছে। এ বিষয়ে বিআরটিএকে লিখিতভাবে জানানো হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে প্রশাসন।

গতকাল বুধবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে শিবালয়ের বরংগাইল বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশে সেলফি পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় ইজিবাইকের দুই যাত্রী নিহত হন। তাঁরা হলেন ঘিওর উপজেলার মৌহালী গ্রামের ইয়াছিন (২০) ও বাবুল (৩০)। এ ঘটনায় ইজিবাইকচালক গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা বাসটি ভাঙচুর করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। দুপুর ১২টা ১২ মিনিট পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ ছিল। বিক্ষোভকারীরা সেলফি পরিবহনের রুট পারমিট বাতিলের দাবি জানান। জেলা প্রশাসকের ঘোষণার দাবিতে অনড় থাকেন তাঁরা।

পরে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন আরা সুলতানা ভিডিওবার্তায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মানিকগঞ্জে সেলফি পরিবহনের সব বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেন। তাঁর আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করে আন্দোলনকারী ছাত্র জনতা।

জেলা প্রশাসক কালের সমাজকে বলেন, সেলফি পরিবহন নিয়ে ইতিপূর্বে দুইবার সভা হয়েছে। পরিবহন কর্তৃপক্ষকে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা না মেনে বাস চালানো হচ্ছে। এ কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মানিকগঞ্জে সেলফি পরিবহনের চলাচল বন্ধ থাকবে। ৬৪টি রুট পারমিটের বিপরীতে ১৭০টি বাস চলাচলের বিষয়ে বিআরটিএকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে গত ২৯ আগস্ট পুখুরিয়া এলাকায় মানববন্ধন, ৩১ আগস্ট জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি এবং ১৪ সেপ্টেম্বর বরংগাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় সচেতন মহল। প্রতিটি কর্মসূচিতেই সেলফি পরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

আগের অভিযোগ ও প্রতিবাদ কর্মসূচির পরও কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি, সেই প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, শুধু সাময়িকভাবে বাস চলাচল বন্ধ নয়, অভিযোগগুলোর তদন্ত করে রুট পারমিট ও বাসের সংখ্যা যাচাই এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। এখন দেখার বিষয়, জেলা প্রশাসনের এই ঘোষণা স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি করে, নাকি আগের মতোই অভিযোগের নিষ্পত্তি অনিশ্চিত থেকে যায়।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!