গাজীপুরের শ্রীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সি স্টেজ (বিডি) লিমিটেড পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার মুলাইদ গ্রামের এমসি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিতে কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শিল্প পুলিশ। এতে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং উভয় পাশে যানজট সৃষ্টি হয়।
বকেয়া বেতন নিয়ে ক্ষোভ
শ্রমিকদের অভিযোগ, সেপ্টেম্বর মাসের বেতন ১০ অক্টোবর পরিশোধ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা দেওয়া হয়নি। পরে শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে কারখানা কর্তৃপক্ষ ১৩ অক্টোবর বেতন পরিশোধের আশ্বাস দেয়। কিন্তু ওই দিনও বেতন না পাওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে।
এরপর বুধবার (১৪ অক্টোবর) বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকেরা এমসি বাজার-শ্রীপল্লী আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। সেদিন বিকেলের মধ্যে বেতন পরিশোধের নতুন আশ্বাস দেওয়া হলেও শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী বেতন পরিশোধ করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিকেরা কারখানায় গিয়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণার বিষয়টি জানতে পারেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সহস্রাধিক শ্রমিক ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন।
পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড, ছত্রভঙ্গ শ্রমিকেরা
অবরোধের খবর পেয়ে শিল্প পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। পাশাপাশি কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বেতন সমস্যার সমাধানের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
তবে শ্রমিকেরা অবরোধ অব্যাহত রাখলে একপর্যায়ে পুলিশ কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পরে শ্রমিকেরা মহাসড়ক ছেড়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।
মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান জানান, শ্রমিকদের অবরোধের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে শিল্প পুলিশের সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শ্রমিকদের অভিযোগ, পুলিশের বক্তব্য
শ্রমিকেরা দ্রুত তাঁদের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বেতন না পাওয়ায় তাঁরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। একজন নারী শ্রমিক পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনায় কয়েকজন শ্রমিক আহত হওয়ার অভিযোগও করেছেন। তবে আহতদের সংখ্যা বা তাঁদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, শ্রমিকদের মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে মহাসড়ক থেকে সরে যেতে অনুরোধ করা হয়েছিল। তাঁরা অবরোধ অব্যাহত রাখায় কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়। বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রমিকদের আবার কারখানার সামনে জড়ো হতে দেখা যায় বলে সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বেতন পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা
এক মাসের বকেয়া বেতনকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিক আন্দোলন এবং মহাসড়ক অবরোধের ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষের বিষয়টি সামনে এসেছে। শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং চলমান সংকটের স্থায়ী সমাধানে কারখানা কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের দাবি উঠেছে। তবে বেতন পরিশোধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে সর্বশেষ নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
কালের সমাজ/কে.পি

