ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

পায়রা নদীর ব্লক নির্মাণে নিম্নমানের বালুতে শতকোটি টাকার উন্নয়ন ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি | অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম পায়রা নদীর ব্লক নির্মাণে নিম্নমানের বালুতে শতকোটি টাকার উন্নয়ন ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা

বরগুনার আমতলীতে পায়রা নদীর ভাঙন রোধে ব্লক নির্মাণকাজে লবণাক্ত বালু ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশন টেকের বিরুদ্ধে। ব্যবহৃত বালুতে নির্ধারিত এফএম (ফাইননেস মডুলাস) মান না থাকার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে নির্মিত ব্লকের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, ২০২৩—২৪ অর্থবছরে পায়রা নদীর ভাঙন রোধে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্লক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। চাওড়া ইউনিয়নের বৈঠাকাটা এলাকার ৪৩/১ নম্বর পোল্ডার এবং আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া এলাকার ৪৪/বি নম্বর পোল্ডারে মোট ৪ হাজার ৫০০ মিটার ব্লক নির্মাণের জন্য ১৩টি প্যাকেজে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়। এর মধ্যে কয়েকটি প্যাকেজের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
বর্তমানে ৪৩/১ নম্বর পোল্ডারের ৩ ও ৪ নম্বর প্যাকেজে ৬০০ মিটার এবং ৪৪/বি নম্বর পোল্ডারের ১৪ ও ১৫ নম্বর প্যাকেজে আরও ৬০০ মিটার ব্লক নির্মাণের কাজ চলছে। মোট ১ হাজার ২০০ মিটার ব্লক নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে ন্যাশন টেক নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী, ব্লক নির্মাণে সিলেকশন বালু ব্যবহার করতে হবে এবং বালুর এফএম মান ২.০০—এর বেশি হতে হবে। তবে অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রাম থেকে লবণাক্ত বালু এনে প্রকল্প এলাকায় মজুত করেছে। বুধবার থেকে ওই বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রহমান মিয়া, হাতেম ও খায়রুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লবণাক্ত বালু এনে স্তূপ করে রেখেছে। এ বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণ করা হলে সেগুলো বেশিদিন টিকবে না। এতে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় করেও নদীভাঙন প্রতিরোধের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না। তাঁরা আরও বলেন, বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দ্রুত তদন্ত করে বালুর মান যাচাই এবং প্রয়োজনে বালু পরিবর্তন করে নির্মাণকাজ চালানোর দাবি জানান তাঁরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মজুত করা কিছু বালুতে প্রয়োজনীয় এফএম মান নেই। এ বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণ করা হলে সেগুলোর স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সিভিল ইঞ্জিনিয়ার আবুল খায়ের বলেন, বালুর এফএম মান পরীক্ষা করেই তা প্রকল্প এলাকায় আনা হয়েছে। এ বালু দিয়ে নির্মিত ব্লক বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষায় মান উত্তীর্ণ না হলে ব্লক বাতিল করা হবে।
ন্যাশন টেকের ম্যানেজার মো. গোলাম ফারুক বলেন, মজুত করা বালু দিয়েই ব্লক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। বালুতে কোনো সমস্যা নেই। নির্মাণ শেষে পরীক্ষাগারে ত্রুটি ধরা পড়লে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ ব্লক বাতিল করবে।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আজিজুল হক সুজন বলেন, কিছু স্তূপের বালুতে এফএম মান কম থাকলেও সব মিলিয়ে বালুর মান ঠিক রয়েছে।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হান্নান প্রধান বলেন, বালুর এফএম মান ঠিক না থাকলে তা দিয়ে ব্লক নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!