ঢাকা রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

ঈদগাঁও–ঈদগড় সড়কে ডাকাতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার | অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম ঈদগাঁও–ঈদগড় সড়কে ডাকাতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি

কক্সবাজারের ঈদগাঁও–ঈদগড় সড়কে দিনদুপুরে দুই দফা গণডাকাতির ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১৯ অক্টোবর সোমবার সকাল ৭টার দিকে সড়কের হিমছড়ি ডালায় প্রথম দফা এবং দুপুর ২টার দিকে দ্বিতীয় দফায় সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। দুই দফায় সিএনজি অটোরিকশা, টমটম ও মোটরসাইকেলের যাত্রীদের জিম্মি করে নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান সামগ্রী লুটের অভিযোগ উঠেছে। দ্বিতীয় দফায় অর্ধশতাধিক যাত্রী

ডাকাতদের কবলে পড়েন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে একটি এনজিওর কর্মকর্তার কাছ থেকে সংস্থার দেড় লাখ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে দিনের আলোয় এমন ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও যাত্রীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে ঈদগাঁও থেকে ঈদগড় যাওয়ার পথে হিমছড়ি ডালায় সংঘবদ্ধ ডাকাত দল চারটি টমটম ও দুটি সিএনজি অটোরিকশায় থাকা যাত্রীদের জিম্মি করে। এ সময় মোহাম্মদ কালাম ও আলী আকবরের দুটি সিএনজি অটোরিকশায় থাকা যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সকালের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই দুপুর ২টার দিকে একই সড়কের দুই পাশ থেকে যানবাহন আটকে আবারও গণডাকাতি করা হয়। এ সময় অর্ধশতাধিক যাত্রীকে জিম্মি করে তাঁদের কাছ থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতেরা বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

দ্বিতীয় দফার ডাকাতির শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন এনজিও সংস্থা মুক্তির কক্সবাজারের ঈদগড়ের সহকারী অ্যাকাউন্টস অফিসার আবদুল হাকিম, সুপার স্টার কোম্পানির প্রতিনিধি রবিউল এবং এনজিও সংস্থা ইপসার কর্মী ইমন ও পিউ চাওদা ইকরামা। মুক্তির কর্মকর্তা আবদুল হাকিম জানান, ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে তাঁকে জিম্মি করে সংস্থার দেড় লাখ টাকা ও তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। সুপার স্টার কোম্পানির প্রতিনিধি রবিউল বলেন, দিনদুপুরে এ ধরনের সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কে এভাবে যাত্রীদের জিম্মি করে লুটপাটের ঘটনায় তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ঈদগড়ের ব্যবসায়ী আবুল কাসেম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরও তাঁদের এমন পরিস্থিতিতে বসবাস করতে হচ্ছে, যেখানে ডাকাতদেরই দাপট চলে।

দুই দফা ডাকাতির খবর পেয়ে ঈদগাঁও থানা পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঘটনাস্থল ও আশপাশের সম্ভাব্য স্থানে অভিযান চালায়। এ সময় গহিন জঙ্গল থেকে নেকাব, বোরকা, গেঞ্জি ও শার্ট উদ্ধার করা হয়। ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এটিএম সিফাতুল মাজদার জানান, ডাকাতির খবর পাওয়ার পর পুলিশ সদস্যরা স্থানীয়দের নিয়ে সম্ভাব্য স্থানগুলোতে, বিশেষ করে গহিন জঙ্গলে অভিযান চালিয়েছেন। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তবে পুলিশের অভিযানের পরও সড়কটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না এলাকাবাসীর। তাঁদের অভিযোগ, জঙ্গল পরিষ্কারের নামে বিচ্ছিন্ন বা লোকদেখানো অভিযান চালিয়ে গণডাকাতির মতো অপরাধ বন্ধ করা সম্ভব নয়। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার করা জরুরি। তাঁদের মতে, শুধু জঙ্গল থেকে পোশাক উদ্ধার করলেই হবে না; ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের উদ্যোগ নিতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা ঈদগাঁও–ঈদগড় সড়কে দিন-রাত নিরাপত্তা জোরদার, ডাকাতপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারি, নিয়মিত টহল এবং দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের প্রশ্ন, গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কে দিনের আলোয় বারবার গণডাকাতির ঘটনা ঘটলে সাধারণ মানুষ নিরাপদে চলাচল করবে কীভাবে? এলাকাবাসীর দাবি, জঙ্গল পরিষ্কারের আনুষ্ঠানিকতা বা আইওয়াশমূলক অভিযান নয়, ঈদগাঁও–ঈদগড় সড়ককে সত্যিকার অর্থে ডাকাতমুক্ত করতে পুলিশ ও প্রশাসনকে কার্যকর, দৃশ্যমান ও স্থায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে।

কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!