ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
টঙ্গীতে ৭ বছর বয়সী শিশুকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ

মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার | অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রথম শ্রেণির সাত বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন হেনস্থা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে একটি মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মুসলেউদ্দিন। তিনি টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ‘ক্বরীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র উপাধ্যক্ষ (ভাইস প্রিন্সিপাল) হিসেবে কমরত ছিলেন। এরআগে ঘটনার ভিডিওটি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মাদ্রাসার ভেতরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত শিক্ষক সাত বছর বয়সী ওই শিশুটিকে অশালীনভাবে স্পর্শ করার কথা স্বীকার করছেন। ঠিক তখনই ক্ষোভে ফেটে পড়ে শিশুটির বাবা তাকে সপাটে চড় মারেন। ভিডিওতে শিশুটির বাবাকে আক্ষেপ করে বলতে শোনা যায়, নিরাপদ ভেবে সন্তানকে দ্বীনি শিক্ষার জন্য মাদ্রাসায় শিক্ষকদের কাছে পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু সেই শিক্ষকই এমন জঘন্য আচরণ করেছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দিন আগে মাদ্রাসায় শিশুটি নিপীড়নের শিকার হয়। এর পর থেকেই সে আর মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না এবং অস্বাভাবিক আচরণ করছিল। ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেছে, ঘটনাটি কাউকে জানালে মারধর করা হবে বলে শিশুটিকে হুমকি দিয়েছিলেন অভিযুক্ত শিক্ষক। ফলে ভয়ে সে প্রথমে বাড়িতে কিছু বলেনি।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০ অক্টোবর ক্বরীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার ভেতরে প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে যৌন হেনস্থা ও অশালীন আচরণ করেন উপাধ্যক্ষ মুসলেউদ্দিন। ঘটনার পর বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য শিশুটিকে মারধরের হুমকি দেন তিনি। এই হুমকির মুখে শিশুটি মারাত্মক আতঙ্কে পড়ে যায় এবং টানা তিন দিন মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শিশুটি তার ওপর ঘটা শারীরিক হেনস্থার কথা বাবা-মায়ের কাছে প্রকাশ করে। বিস্তারিত জানার পর বুধবার দুপুরে শিশুটির বাবা সরাসরি মাদ্রাসায় গিয়ে উপাধ্যক্ষ মুসলেউদ্দিনের কাছে এ বিষয়ে জবাব চান।
পরে ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদকালে অভিযুক্ত শিক্ষক নিজের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন। তবে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টঙ্গী পশ্চিম থানার (ওসি) আরিফ হোসেন জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে আটক করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে— ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে এবং এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার ওই শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এদিকে ঘটনার পর পাল্টাপাল্টি অভিযোগও উঠেছে। মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ বারীজুল আলমগীর হোসেন দাবি করেছেন, এক অভিভাবকের নেতৃত্বে ১৫ জনের একটি দল মাদ্রাসায় প্রবেশ করে হামলা, ভাঙচুর, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধর, শ্লীলতাহানি এবং প্রায় লুট করেছে। তবে পুলিশ বা নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে এই অর্থ লুটের অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
অন্যদিকে পুরো ঘটনার ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ তোলে, একটি পক্ষ এই ভিডিও ছড়িয়ে ঘটনাটিকে ‘মাদ্রাসায় সন্ত্রাসী হামলা’ বলে প্রচার করে মূল ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

কালের সমাজ/কে.পি

রাজধানী বিভাগের আরো খবর

Link copied!