চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট হাইওয়ে থানার পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে সড়কে নিয়মিত চাঁদাবাজি ও টোকেন বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিন চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনের কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে চালকদের ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।ভুক্তভোগী চালকদের দাবি, কাগজপত্রে সামান্য ত্রুটি পেলেই মামলার ভয় দেখানো হয়। পরে টাকা দিলে সেই কাগজপত্রই আবার বৈধ হয়ে যায়।
সিএনজি অটোরিকশা, ড্রাম ট্রাক, ট্রলি ও মোটরসাইকেল চালকদের কাছ থেকে মাসিক ভিত্তিতে টোকেন দিয়ে মাসোহারা আদায়ের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চালক বলেন, তিন মাসে নির্দিষ্ট টাকা দিয়ে টোকেন নিতে হয়। কোনো মাসে টাকা দিতে দেরি হলে গাড়ি আটকে মামলা দেওয়া হয়।সম্প্রতি হাইওয়ে থানার ওসি সাহাব উদ্দীনের বিরুদ্ধে এক প্রবাসীকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। অসুস্থতার অজুহাতে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি না হলেও, ওই সময় তিনি আবছার নামে এক প্রবাসীর গাড়ি আটকিয়ে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করেন বলে জানা গেছে।
এ সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা ওই প্রবাসীর সঙ্গে অশোভন আচরণ ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছেন বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।স্থানীয়দের অভিযোগ, হাইওয়ে পুলিশ শুধু চাঁদাবাজিতে ব্যস্ত থাকে। ঝংকার মোড় ও বিবিরহাট বাসস্ট্যান্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তীব্র যানজট সৃষ্টি হলেও তাদের দেখা মেলে না। পুলিশের এমন ভূমিকায় সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি সাহাব উদ্দীন বলেন, নিয়মিত আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা অঞ্চলের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খান বলেন, আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ এখনো পাইনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালের সমাজ/কে.পি

