গত এক সপ্তাহ ধরে সারাদেশে তীব্র তাপদাহ চলছে। এই তাপদাহের কারণে মানুষের চলাফেরা দু:সাধ্য হয়ে পড়েছে। অসহনীয় তাপদাহের প্রভাব পড়েছে কক্সবাজারের চকরিয়া সাফারি পার্কের পশু-পাখিদের মাঝেও। তাপদাহের কারণে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে সাফারি পার্কের প্রাণীকুল। এর ফলে গত কয়েকদিন ধরে পার্কে দর্শনার্থী সমাগম নেই বললেই চলে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস সুত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে কক্সবাজারে তাপমাত্র ছিলো ৩৯-৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াস। সর্বশেষ শনিবার পর্যন্ত এই তাপমাত্র অব্যাহত রয়েছে। আগামী কয়েকদিন তাপমাত্র আরও বাড়বে বলে জানা গেছে।
পার্ক সুত্রে জানা গেছে, তীব্র তাপদাহের কারণে পশু-পাখিরা যাতে অসুস্থ হয়ে না পড়ে সেজন্য বাড়তি সর্তকতা অবলম্বন করা হচ্ছে। পশুদের ভিটামিন-সি এবং খাবার স্যালাইন দেয়া হচ্ছে। সিংহ-বাঘ ও হরিণের বেষ্টনিতে বসানো চৌবাচ্চাগুলোর পানি পরিস্কার করে দেয়া হচ্ছে। প্রতিদিন ওইসব চৌবাচ্চাগুলোতে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। তাছাড়া ভিটামিন-সি ও খাবার স্যালাইন পানিতে মিশিয়ে বেষ্টনির মধ্যে রাখা হয়েছে। কিছুক্ষণ পরপর তাদের স্যালাইনের পানি খাওয়ানো হচ্ছে।
আরও জানা গেছে, পশুদের মধ্যে বাঘ, ভল্লক আর হরিণ অতি তাপমাত্র সহ্য করতে পারেনা। অন্যান্য প্রাণীগুলোর তাপ সহ্য ক্ষমতা মোটামুটি ভালো। সেজন্য বাঘ, ভল্লক আর হরিণের উপর বিশেষ নজরদারি করা হচ্ছে। পার্কে থাকা জেব্রা, ওয়াইল্ডবিষ্ট, কুমির, হাতি, গন্ডারসহ অন্য প্রাণীরা পার্কের লেকের পানি পান করছে। গরম অনুভুত হলেই তারা লেকে নেমে পড়ছে। স্ব-স্ব বেষ্টনির কেয়ারটেকারদের সার্বক্ষণিক মনিটরিং করার জন্যও নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
চকরিয়া সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্টার মঞ্জরুল আলম বলেন, কয়েকদিন ধরে তীব্র তাপদাহের কারণে পার্কে থাকা পশু-পাখিরা একটু অস্বস্তির মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে বাঘ, ভল্লক ও হরিণ তাদের একটু কষ্ট হচ্ছে। পার্কে অন্যান্য প্রাণীরা গরম অনুভুত হলেই লেকের পানিতে নেমে শরীর ভিজিয়ে নিচ্ছে। গাছের ছায়ার নিচে বসে পড়ছে।
তিনি আরও বলেন, পার্কে থাকা বাঘ, ভল্লক ও হরিণের বেষ্টনিতে চৌবাচ্চাগুলোতে দিনে দুইবার করে পানি পরিস্কার করে দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বাঘ-সিংহের বেষ্টনিতে দু’বার করে পানি বদলে দেয়া হচ্ছে। বেষ্টনির উপর টিন দেয়া হয়েছে। তবে, বিদ্যুত না থাকার কারণে সঠিক সময়ে পানির জন্য কষ্ট পেতে হচ্ছে।
হরিণের বেষ্টনিতে পানি চৌবাচ্চায় পানি রাখা হয়েছে। তারা একটু পরপর এসে পানি পান করছে। ভল্লুকের বেষ্টনিতেও একই রকম ভাবে পানি রাখা হয়েছে। তাদের সবজি জাতীয় খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। বাঘ-সিংহদের দৈনিক এক বেলা করে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। তীব্র তাপদাহতে যাতে পশু-পাখিরা অসুস্থ না হয়, সেজন্য সর্তকতামুলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
কালের সমাজ/কে.পি

