ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা-এ খাল পুনঃখনন প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থের গরমিলের অভিযোগ উঠেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পে নির্ধারিত ব্যয় ও বাস্তব কাজের মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
জানা যায়, উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের মনোহরপুর থেকে চৌসারা পর্যন্ত প্রায় ১.২ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য ৩০ লাখ ৯৪ হাজার ১১৭ টাকা বরাদ্দ ধরা হয়। প্রকল্পটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইউপি সদস্য রিকাত মেম্বার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খননকাজে শ্রমিকের পরিবর্তে ভেকু (খননযন্ত্র) ব্যবহার করে মাত্র তিন দিনের মধ্যেই কাজ শেষ করা হয়। এতে প্রকল্প ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, “খালের প্রকৃত ব্যয় আনুমানিক ১৬ থেকে ১৭ লাখ টাকার মতো হতে পারে। এখনো চূড়ান্ত হিসাব করা হয়নি। তবে কাগজে-কলমে ৩০ লাখ ৯৪ হাজার টাকা দেখানো থাকতে পারে।”

এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি রিকাত মেম্বার বলেন, “সব কিছুই পিআইও এবং সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান জানেন।”
তবে চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার বলেন খাল খনন কাজ পিআইও করছে সে জানে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, খননকৃত খালের মাটি অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছে কিংবা প্রকল্পের কাজ কাগজে দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা চলছে।
এছাড়া বর্তমান প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও নয়ছয়ের অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। এছাড়া প্রকল্পের কাজে ভ্যাট কেটে নিয়ার পর ২০ পারসেন্ট কমিশন নিয়ে থাকেন বলে নাম প্রকাশের স্বর্তে এক চেয়ারম্যান বলেন।
ইউপি এক সদস্য বলেন প্রকল্পের কাজে ভ্যাট কাটার পর চেয়ারম্যান ও পিআইও যে টাকা নেওয়ার পর যে টাকা থাকে তা দিয়ে কি আর কাজ করবো।

গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে খাল খনন কাজ শেষে উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শামা ওবায়েদ। তবে উদ্বোধনী ফলকে প্রকল্পের ব্যয়ের পরিমাণ উল্লেখ না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রকল্পে কত টাকা বরাদ্দ ছিল, সে তথ্য জনসাধারণের অজানাই থেকে গেছে।
সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের অনিয়মের কারণে উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কালের সমাজ/এসআর

