ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

সংস্কারের ১৫ দিনেই খানাখন্দে পটুয়াখালী—কুয়াকাটা মহাসড়ক, দুর্ভোগে যাত্রীরা

আমতলী উপজেলা প্রতিনিধি, বরগুনা | জুলাই ২০, ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম সংস্কারের ১৫ দিনেই খানাখন্দে পটুয়াখালী—কুয়াকাটা মহাসড়ক, দুর্ভোগে যাত্রীরা

সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের ১৯ কিলোমিটার অংশ আবারও খানাখন্দে ভরে গেছে। এতে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা, যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও তদারকির ঘাটতির কারণেই এত অল্প সময়ের মধ্যে নতুন করে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। 

তারা সংস্কারকাজের মান যাচাই করে অনিয়মের তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ পটুয়াখালী—কুয়াকাটা মহাসড়কটি ২০০০ সালে নির্মাণ করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, নির্মাণের পর থেকেই বিভিন্ন অংশে ত্রুটি দেখা দিতে শুরু করে। ২০১৮ সালে আংশিক সংস্কার করা হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে সড়কজুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দের কারণে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
 

পটুয়াখালী সেতুর টোল আদায় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ৯১২টি বাস, ট্রাক, মিনি ট্রাক, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার চলাচল করে। এর পাশাপাশি কয়েক হাজার মাহেন্দ্র, ট্রলি, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাও এ সড়ক ব্যবহার করে।
চলতি বছরের জুন মাসের শুরুতে পটুয়াখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে মহিষকাটা পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ শুরু করে পটুয়াখালী সওজ বিভাগ। গত ৩০ জুন কাজ শেষ হয়। তবে কাজ শেষ হওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে আবারও গর্ত দেখা দেয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শাখারিয়া থেকে মহিষকাটা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অংশ।
 

সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, সংস্কার করা সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও পুরো সড়কজুড়েই খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি যেমন বেড়েছে, তেমনি যাত্রীদের দুর্ভোগও চরম আকার ধারণ করেছে।
যাত্রী তানজিলা, জিয়া উদ্দিন জুয়েল ও নজরুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন আগেও এই সড়কে সংস্কারের কাজ চলতে দেখেছেন। অথচ অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি আবারও আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। এতে প্রতিদিন যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
তুহিন পরিবহনের চালক সাদ্দাম মিয়া বলেন, নতুন সংস্কার করা সড়ক এত দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে, তা কল্পনাও করিনি। গর্ত এড়িয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে থাকতে হচ্ছে।
 

চালক মো. নিজাম উদ্দিন ও সালাম এবং স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান, রাসেল ও শাহ আলমের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং কার্যকর তদারকির অভাবের কারণেই সড়কের এই অবস্থা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রতিবছর সংস্কারের নামে সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও টেকসই কাজের অভাবে অল্প সময়ের মধ্যেই একই সমস্যা ফিরে আসে। তাই তারা শুধু পুনঃসংস্কার নয়, পুরো প্রকল্পের কাজের মান নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করে দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!