ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

রূপগঞ্জে স্কুল ফিডিংয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন, মান যাচাই করেই বিতরণ হচ্ছে খাবার

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি | জুলাই ২৮, ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম রূপগঞ্জে স্কুল ফিডিংয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন, মান যাচাই করেই বিতরণ হচ্ছে খাবার

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন ডিম, রুটি, কলা, দুধ, বিস্কুটসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর খাবার সরবরাহের কথা থাকলেও, কিছু বিদ্যালয়ে নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাবার বিতরণের অভিযোগ ওঠে।

 এরপর থেকেই উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদারকি কমিটি গঠন করা হয়। বর্তমানে প্রতিদিন খাবার বিতরণের আগে কমিটির সদস্য এবং অভিভাবকদের সমন্বয়ে খাবারের মান, মেয়াদ ও গুণগত দিক যাচাই-বাছাই করে শিক্ষার্থীদের মাঝে নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

জানা গেছে, রূপগঞ্জ উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভায় ১১৫ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। আর এই উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোর মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২২ হাজার ৯২৩ জন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে নিম্ন এবং মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তানরা লেখাপড়া করে থাকে। আর সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৫ দিন খাবার বিতরণ করা হয়। 
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন ডিম, রুটি, কলা, দুধ, বিস্কুটসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর খাবার সরবরাহের কথা থাকলেও, কিছু বিদ্যালয়ে নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাবার বিতরণের অভিযোগ ওঠে। এরপর থেকেই প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে প্রধান করে দুজন শিক্ষক ও তিনজন অভিভাবক সদস্যসহ মোট পাঁচ সদস্যের একটি তদারকি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা প্রতিদিনই খাবারের মান যাচাই-বাছাই করে তারপর শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করছেন।  কমিটির তদারকির কারণে এখন রূপগঞ্জের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার বিতরণ নিশ্চিত হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে এসেছে। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাবার পেয়ে তারা খুবই আনন্দিত।অভিভাবকরাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। 
শিক্ষার্থী, কমিটির সদস্য ও অভিভাবকরা জানান, বর্তমানে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক সকলেই খুশি।  স্কুলে খাবারের মান এখন খুবই ভালো। যাচাই-বাছাই করে আমরা সন্তানদেরকে ভালো খাওয়াটি পরিবেশন করছেন। যদি এর মধ্যে খারাপ নষ্ট কোন খাবার আছে সেটি আমরা ফেরত দিয়ে দিচ্ছে পুনরায় আবার নতুন খাবার এনে দিচ্ছি।এরকম পুষ্টিকর খাবার পেয়ে আমরা খুবই আনন্দিত।আমরা ইস্কুল ফাঁকি দেই না এখন আর। আমাদের স্কুলে আসতে খুবই ভালো লাগে।

রূপগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাজমুন নাহার জানান, মানসম্মত খাবার পরিবেশন ও শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন উপস্থিতির হার ৯৫%। আশা করছি সরকারে খাবার সরবরাহ চালু রাখবেন।

শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভবিষ্যতেও যেন একইভাবে খাবারের মান নিয়মিত তদারকি করা হয়, সেই দাবি তাদের।

কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!