ঢাকা বুধবার, ০৫ আগস্ট, ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩

৫০০ টাকা দৈনিক মজুরি ও অবাধ ইউনিয়ন নির্বাচনের দাবি

শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি | জুলাই ৩০, ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম ৫০০ টাকা দৈনিক মজুরি ও অবাধ ইউনিয়ন নির্বাচনের দাবি

দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি কার্যকর, বকেয়া মজুরি পরিশোধ এবং শ্রম অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপমুক্ত পরিবেশে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে গণবিক্ষোভ, সমাবেশ ও দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেছেন চা শ্রমিকরা।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে উপজেলার টিপড়াছড়া চা বাগানের সার্বজনীন নাটমন্দির প্রাঙ্গণে কর্মসূচি শুরু হয়। প্রথমে শ্রমিকরা দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেন। পরে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা। কর্মসূচির আয়োজন করে ‘বাংলাদেশের সাধারণ চা শ্রমিক ও ছাত্র-যুবকবৃন্দ’। এতে সহযোগিতা করে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন সংস্কার কমিটি।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জাতীয় সংসদে চা শ্রমিকদের দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি নির্ধারণের প্রস্তাব উত্থাপিত হলেও তা কার্যকর হয়নি। এতে শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, বর্তমান বাজারদরে দৈনিক ১৮৭ টাকা মজুরিতে একটি পরিবারের ন্যূনতম চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব নয়। শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে অধিকাংশ শ্রমিক পরিবার চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের অর্থনীতিতে চা শিল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও এই শিল্পের মূল চালিকাশক্তি চা শ্রমিকরা এখনও ন্যায্য মজুরি ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তাই অবিলম্বে দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি কার্যকর এবং বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবি জানান তারা।
সমাবেশে শ্রম অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ ছাড়াই বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের দাবিও জানানো হয়। বক্তাদের ভাষ্য, নিজেদের প্রতিনিধি স্বাধীনভাবে নির্বাচনের সুযোগ নিশ্চিত করা শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন সংস্কার কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আকাশ দোষাদ বলেন, প্রায় দুই শতাব্দী ধরে চা বাগানে বসবাস করলেও অধিকাংশ চা শ্রমিকের নিজস্ব জমির মালিকানা নেই। ফলে তারা অনেক মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
বক্তারা আরও বলেন, বছরে মাত্র আট টাকা মজুরি বৃদ্ধি শ্রমিকদের সঙ্গে প্রহসনের শামিল। মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি এখন সময়ের দাবি। দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন চা শ্রমিক নেত্রী বৃন্দা রানী তাঁতী, ঝিনুক ব্যানার্জী, রিপন তন্তবায়, রঞ্জু তাঁতী, নিরঞ্জন দাশ, জয় কুমার পাল, কেজুরিছড়া চা বাগানের সভাপতি মহেশ্বর দাশ, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন সংস্কার কমিটির আহ্বায়ক বিশু প্রসাদ গোয়ালা এবং যুগ্ম আহ্বায়ক আকাশ দোষাদ। এ ছাড়া স্থানীয় ছাত্র-যুব প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!