ঢাকা বুধবার, ০৫ আগস্ট, ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩

বৃষ্টিতে সংস্কার করা সড়ক সংস্কার দায়সারা সংস্কার করে অর্থ লোপটের অভিযোগ

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি | আগস্ট ২, ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম বৃষ্টিতে সংস্কার করা সড়ক সংস্কার দায়সারা সংস্কার করে অর্থ লোপটের অভিযোগ

বৃষ্টির মধ্যে সংস্কার করা সড়ক আবারো সংস্কার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃষ্টিতে দায়সারা সড়ক সংস্কার করে অর্থ লোপটের অভিযোগ স্থানীয়দের। দ্রুত তদন্ত করে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবী আলিফ পরিবহন চালক মোঃ বেল্লাল হোসেনের।

বেল্লাল হোসেন অভিযোগ করেন, পটুয়াখালী-কুয়াকাটা ৭১ কিলোমিটার মহাসড়কের পটুয়াখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে মহিষকাটা পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার অংশের সংস্কার কাজ জুন মাসে শেষ হয়। কাজ শেষের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। ওই খানাখন্দ সড়ক গত ১৫ দিন আগে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সংস্কার করে। সংস্কার সড়ক সংস্কারের ১০ দিনের মাথায় আবারো খানাখন্দে পরিনত হয়। সেই সড়ক তরিগড়ি করে সড়ক ও জনপথ বিভাগের লোকজন বৃষ্টির মধ্যে সংস্কার করছে। সরকারের টাকা লোপট করতেই বৃষ্টির মধ্যে সড়ক সংস্কার করছে। তদন্ত করে যারা সরকারী টাকা লোপট করতে এভাবে দায়সারা কাজ করতে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী তার।  

জানাগেছে, বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) বরিশাল, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার আওতায়। মহাসড়কের এই ৭১ কিলোমিটার ২০০০ সালে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ নির্মাণ করে। তবে নির্মাণকাজে অনিয়ম হওয়ায় কয়েক বছরের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ও খানাখন্দে পরিনত হয়। । ২০১৮ সালে সড়কের কিছু অংশে সংস্কারর্ করা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

পটুয়াখালী সেতুর টোল আদায় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ৯১২টি বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। এর মধ্যে দূরপাল্লার বাস, লোকাল বাস, ট্রাক, মিনি ট্রাক, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন সহস্রাধিক অবৈধ মাহেন্দ্র, ট্রলি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাও এ সড়ক ব্যবহার করে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের পাশাপাশি দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গত আট বছরে মহাসড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ তৈরি হয়।

চলতি বছরের জুন মাসের শুরুতে পটুয়াখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে মহিষকাটা স্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ১৯ কিলোমিটার সড়ক মেরামতের উদ্যোগ নেয় পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগ। ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে মহাসড়কের এই ১৯ কিলোমিটার গত ৩০ জুন সংস্কারকাজ শেষ হয়। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই সড়কের পিচ ও পাথর উঠে শত শত খানাখন্দ সৃষ্টি হয়। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ নিয়ে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় স্বচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর নড়েচড়ে বসে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। প্রতিবেদন প্রকাশের পরে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সড়ক সংস্কার করে। ওই সড়ক সংস্কারের ১০ দিনের মাথায় আবারো সড়ক খানাখন্দে পরিনত হয়। শনিবার বৃষ্টিতে ভিজে ওই খানাখন্দ সড়ক আবারো সংস্কার করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, শাখারিয়া থেকে মহিষকাটা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক খানাখন্দে পরিনত হয়েছে। অনেক জায়গায় পিচ উঠে গিয়ে ইটের খোয়া বেরিয়ে এসেছে। বৃষ্টিতে ভিজে পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের লোকজন ওই সড়ক পুনরায় সংস্কার করছে।

স্থানীয় মিথুন কর্মকার বলেন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও দায়সারাভাবে সংস্কারকাজ করায় এত অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের এই বেহাল অবস্থা হয়েছে। তিনি সংস্কার কাজের মান তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

যাত্রী নাজমুল আহসান ও রাশেমুল হাওলাদার বলেন, কয়েকদিন আগেও সড়কে সংস্কারকাজ চলতে দেখেছি। কিন্তু এখন সেই সড়ক আবারও খানাখন্দে ভরে গেছে। বৃষ্টির মধ্যে সেই খানাখন্দ সড়কে কাজ করছে। এগুলো সরকারের টাকা লোপট ছাড়া আর কিছুই না। একটি সড়ক সংস্কারের ১০ দিনের মাথায় যদি আবারো সংস্কারের প্রয়োজন হয়, তাহতে যারা কাজ করেছেন তারা কি করেছেন ? তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী তাদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক বলেন, স্যারেরা মোগো যেই রহম কাম হরতে কইছে, মোরা হেই রহম কাম হরছি। হ্যাগো কতার বাইরে মোরা কিছুই হরতে পারমু না।

পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বৃষ্টির মধ্যে সড়কে সংস্কার কাজ করার কথা স্বীকার করে বলেন, ছোট থাকতেই খানাখন্দ মেরে দিতে হয়, না দিলে খানাখন্দ বড় হয়। তাই বৃষ্টি উপেক্ষা করে কাজ করতে হচ্ছে। বৃষ্টির মধ্যে কাজ করলে এ সড়ক টিকবে কিনা? এমন প্রশ্নের সদুত্তর না দিয়ে তিনি বলেন,কিছুই করার নেই, এটা সরকারের চলমান প্রক্রিয়া।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!