স্বপ্ন ছিল ভালো ফলাফলের, ছিল নিরলস পরিশ্রম। দিনের পর দিন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কঠোর অধ্যবসায়, অভিভাবকদের প্রত্যাশা আর প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত তদারকির অবশেষে মিলেছে সাফল্যের মুকুট। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সেই সাফল্যের উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখেছে বুড়িচং মডেল একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
প্রতিষ্ঠানটি থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় মোট ৫৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে ৯ জন জিপিএ-৫সহ ৫২ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৫ শতাংশ। কাঙ্ক্ষিত ফলাফল হাতে পেয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে নেমে এসেছে আনন্দের আবহ।
ফলাফল অনুযায়ী, ৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫, ১৫ জন ‘এ’, ১২ জন ‘এ-’, ১৫ জন ‘বি’ এবং ১ জন শিক্ষার্থী ‘সি’ গ্রেড পেয়েছে। তবে ৩ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, এবারের ফলাফল তাদের জন্য শুধু একটি ফলাফল নয়; এটি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, ত্যাগ ও প্রত্যাশার প্রতিফলন। বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া—দুই উপজেলায় ফলাফলের দিক থেকে প্রতিষ্ঠানটি সেরাদের সেরা ফলাফল অর্জন করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অধ্যক্ষ মুহাম্মদ কবির হোসেন আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “মহান রবের দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। আমাদের শিক্ষার্থীরা যে সাফল্য অর্জন করেছে, এতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, নিয়মিত হোমওয়ার্ক, শিক্ষকদের আন্তরিকতা, কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি এবং অভিভাবকদের সহযোগিতাই আমাদের এই অর্জনের মূল শক্তি।”
উল্লেখ ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ আবু তাহের, এবং ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুল আউয়ালের সার্বিক তদারকিতে এ ধরনের সাফল্য অর্জন করে।
তিনি আরও বলেন, শত প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। শিক্ষকরা নিজেদের দায়িত্বের প্রতি আন্তরিক থেকে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পাশাপাশি নিয়মিত দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই এই অভাবনীয় সাফল্য এসেছে।
তিনি এই সাফল্যের জন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও আরও ভালো ফলাফল অর্জনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এদিকে, বুড়িচং মডেল একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক শাখায় ভর্তি কার্যক্রম চলছে।
কালের সমাজ/কে.পি

