শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গাইড বই ও কোচিং বাণিজ্য বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল ৩টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে পিরোজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবকদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তানজিলা কবির ত্রপা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আলাউদ্দিন ভূঁইয়া জনি, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইদ্রিস আলী আজিজীসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ৩০ জন অভিভাবক।
সভায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, কোচিং, গাইড বইয়ের ব্যবহারসহ বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম আরও উন্নত করতে বিভিন্ন পরামর্শ তুলে ধরেন।
জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, শিক্ষার সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনীতি বা অপসংস্কৃতির সম্পৃক্ততা থাকতে দেওয়া হবে না। শুধু এ-প্লাস পাওয়ার পেছনে না ছুটে শিক্ষার্থীদের গুণগত ও মানসম্মত শিক্ষার দিকে মনোযোগী হতে হবে।
শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে হবে। সন্তোষজনক উপস্থিতি না থাকলে নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিলের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
কোচিং বাণিজ্যের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধে প্রয়োজন হলে আইন প্রয়োগ করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে। সন্ধ্যার পর কোনো কোচিং কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না বলেও তিনি জানান।
গাইড বইয়ের ব্যবহার বন্ধের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের গাইড বই চলবে না। কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীদের গাইড বই পড়ার পরামর্শ দিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানদের শুধু পরীক্ষার ফলাফলের পেছনে না ছুটিয়ে নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের চর্চায় অভ্যস্ত করতে হবে। মেধা কখনো চাপিয়ে রাখা যায় না। তাই শিক্ষার্থীদের নিজস্ব মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী গড়ে তুলতে শিক্ষক ও অভিভাবক উভয়কেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
জেলা প্রশাসক জানান, জেলার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মনিটরিং টিম গঠন করা হবে। পাশাপাশি একটি কমিটি নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রতি সপ্তাহে জেলা প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন দেবে। তিনি বলেন, সুসন্তান হিসেবে গড়ে তুলতে না পারলে ভবিষ্যতে সেই সন্তান পরিবারের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই সন্তানদের সুশিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
সভা শেষে জেলা প্রশাসক বলেন, জেলা প্রশাসনের দরজা সবসময় সবার জন্য উন্মুক্ত। শিক্ষার্থী, অভিভাবক কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো সমস্যা থাকলে তা প্রশাসনকে জানানো হলে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে তিনি অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতামূলকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
কালের সমাজ/কে.পি

