ঢাকা শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
অশ্রুসিক্ত নয়নে"মা"কে শেষ বিদায়

জানাযা-দাফন শেষ করে কারাগারে ফিরলেন সাবেক মেয়র রাসেল

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি | আগস্ট ১৪, ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম জানাযা-দাফন শেষ করে কারাগারে ফিরলেন সাবেক মেয়র রাসেল

চার ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে অশ্রু সিক্ত নয়নে মায়ের জানাযা ও দাফন সম্পন্ন করেছেন পাবনা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ মোঃ মকবুল হোসেনের ছেলে, ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক মেয়র আলহাজ্ব মোঃ গোলাম হাসনাইন রাসেল।
শুক্রবার ১৪ আগস্ট-২০২৬, সকাল ১০টার দিকে সরকারি ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে তার মা বেগম নুরজাহান রেখার জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা নামাজ শেষে পার-ভাঙ্গুড়া কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

মায়ের জানাযায় অংশ নিতে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চার ঘণ্টার জন্য পুলিশি পাহারায় প্যারোলে মুক্তি পান কারাগারে থাকা মেয়র রাসেল। মায়ের নিথর দেহ সামনে রেখে তাকে অশ্রু সিক্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

রাসেলের মায়ের জানাযায় দল-মত নির্বিশেষে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। স্থানীয়দের হিসাবে, জানাযায় প্রায় ১২-১৫ হাজার মানুষের সমাগম হয়। বিশাল মাঠজুড়ে মানুষের উপস্থিতিতে সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

জানাযার আগে রাসেল কে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মায়ের জানাযা ও দাফন সম্পন্ন করার পর তাকে আবারও পুলিশি পাহারায় পাবনা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট সকাল ৯,৫৫ মিনিটে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বেগম নুরজাহান রেখা(৬৮)। দীর্ঘদিন ধরে কিডনি সহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন তিনি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রায় দেড় মাস আগে তাকে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।

মায়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর জানাজায় অংশ নিতে না পারার আশঙ্কায় কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন রাসেল। একটি মামলায় আদালত থেকে জামিন পেলেও অন্য একটি মামলায় তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানোয় তার কারামুক্তি আটকে যায়। পরে মানবিক বিবেচনায় মায়ের জানাযা ও দাফনে অংশ নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে করা প্যারোলের আবেদন মঞ্জুর হয়।

জেলা প্রশাসনের অনুমতি অনুযায়ী শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চার ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের শেষ বিদায়ে অংশ নেন রাসেল। জানাযা ও দাফন শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাকে ফের কারাগারে নেওয়া হয়।

কালের সমাজ/কে.পি

 

 

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!