ঢাকা শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাতক্ষীরার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি শহরে উন্নতি হলেও গ্রামের অবস্থা খারাপ

জেলা প্রতিনিধি,সাতক্ষীরা | আগস্ট ১৪, ২০২৬, ০৯:০২ পিএম সাতক্ষীরার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি শহরে উন্নতি হলেও গ্রামের অবস্থা খারাপ

তীব্রগরমের মধ্যে ঘনঘন লোডশেডিং ও লো ভোল্টেজে সাতক্ষীার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জেলাশহরের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও গ্রামাঞ্চলের বিদ্যুতের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। সাতক্ষীরাজেলায় গরমকালে বিদ্যুতের চাহিদা ১৭০ মেগাওয়াট। সাধারন সময়ে চাহিদা থাকে ১৪০মেগাওয়াটের মত। এর বিপরীতে গরমে সরবরাহ পাওয়া যায় ১৩০ থেকে ১২০ মেগাওয়াট। আর চলতিসময়ে চাহিদা ১৪০ মেগাওয়াটের মত। এর থেকে ৩০ থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম পাওয়ায় গ্রামেরকিছু এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কতৃপক্ষ। তথ্যানুন্ধ্যানেজানা গেছে, সাতক্ষীরা জেলায় মোট বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে ৭ লাখ ৭ হাজার।

এরমধ্যে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির আওতায় গ্রাহক রয়েছে ৬ লাখ ৪৭ হাজার এবং সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় ওয়েস্ট জোনপাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী (ওজোপাডিকো) গ্রাহক রয়েছে প্রায় ৬০ হাজার। বর্তমানেসাতক্ষীরা পৌর এলাকায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের পরিমান ১০থেকে ১২ ঘণ্টা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। অনেক গ্রাহকের অভিযোগ রাতে কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ বার বিদ্যুৎআসা-যাওয়া করছে।কালিগঞ্জউপজেলা মুকুন্দ মধুসুদনপুর এলাকার আমেনা খাতুন জানান, তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎঠিকমত না থাকায় তারা অনেক কষ্টের মধ্যে আছেন। বিদ্যুৎ একবার গেলে এক ঘণ্টার আগে বিদ্যুৎ  আসে না।

বাচ্চাদের পড়ালেখার সমস্যা হচ্ছে, কেউঠিকমতো ঘুমাতে পারে না। দেবহাটারপারুলিয়া শেখপাড়া এলাকার ফিরোজা বেগম বলেন, দিনের আর্ধেক সময় বিদ্যুৎ থাকেনা।সারারাতের মধ্যে ২ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকেনা। সীমাহীন দুর্ভোগে আছেন তারা।   শ্যামনগর উপজেলারমুন্সীগঞ্জ এলাকার মনির হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুৎ যায়না-মাঝে মাঝে আসে’।  তাদের এলাকার ফ্রিজগুলিতে কোনোকিছু রাখাযাচ্ছেনা। রাইস কুকার চালানো যাচ্ছে না।  এ বিষয়েসাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আজিজুর রহমান সরকার বলেন, পুরা গরমেবিদ্যুতের সবোচ্চ চাহিদা থাকে ১৫৮ মেগাওয়াট। অন্যসময় গড়ে ১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুতেরচাহিদা থাকে।

এখন প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে তিনিস্বীকার করেন। বাস্তবতার সাথে এই তথ্যের মিল নেই এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানেসাতক্ষীরা-মুন্সীগঞ্জ সড়কে রাস্তার পাশে বিদ্যুতের পোল সরানোর কাজ হচ্ছে এ কারনে এসবএলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীর (ওজোপাডিকো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সোয়াইবহোসেন বলেন, তাদের পিক আওয়ার অফ পিক আওয়ার মিলে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ২২/২৩মেগাওয়াট। সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় চাহিদার তুলনায় ২০ মেগাওয়াট বা কখনও পুরোটা বিদ্যুৎবরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এতে করে পৌর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতিহয়েছে।

কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!