ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের রতনপুর ইউনিয়নের শাহপুরে (৭ নং ওয়ার্ড) মৃত রহিম মাষ্টারের স্ত্রী শিরিয়া আক্তারের বিধবা কার্ডের ভাতার টাকা গত তিন বছর যাবত আত্মসাৎতের অভিযোগ উঠে বিধবার সৎ ছেলে তৌহিদুল ইসলাম আনিসের বিরুদ্ধে।
তিনি আরো অভিযোগ করেন স্বামীর ব্যাংকের একাউন্টে রক্ষিত ৭ লক্ষ টাকা ও জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন ছেলে তৌহিদুল ইসলাম আনিস।
অসহায় শিরিয়া বেগম স্থানীয় মেম্বারের নিকট বিধবা কার্ডের জন্য আবেদন করে জানতে পারেন আনিছ তার নামে বিধবা কার্ড করে বিগত তিন বছর যাবত টাকা উত্তোলন করছেন। অথচ বিধবা শিরিয়া বেগম এ বিষয়ে কিছু জানেন না। তিনি এ বিষয়ে ছেলে আনিসকে জিজ্ঞাসা করলে সে অস্বীকার করে এবং গালি-গালাজ করেন। বিধবা শিরিয়া এ ব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা মারুফের বরাবর আবেদন করলে ছেলে তৌহিদুল ইসলাম আনিস চেয়ারম্যান নিকট ভাতা আত্মসাৎ এর ২০ হাজার টাকা জমা রাখেন।
এ বিষয়ে রতনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা মারুফের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন-"বিধবা কার্ডের বিষয়ে শিরিয়া বেগমের অভিযোগ সঠিক, বিধবা কার্ডের বিষয়ে ২১ হাজার টাকা মহিলা পাবে অভিযুক্ত আনিস ২০ হাজার টাকা আমার অফিসে জমা দিয়েছেন, ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ এর বিষয়ে ব্যাংকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। নোটিশ করে দুই পক্ষকে উপস্থিত করে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জেনে সমাধান করার চেষ্টা করব।"
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আনিস বলেন-"আমি যদিও কার্ডের টাকা নিয়েছি এটা আমার মায়ের টাকা, মা চেয়ারম্যান অফিসে অভিযোগ করায় আমি টাকা চেয়ারম্যান সাহেবের নিকট জমা দিয়েছি।"
ব্যাংকের একাউন্টে রক্ষিত সাত লক্ষ টাকা আত্মসাৎ ও বিধবা কার্ডের টাকা নিজের নিকট রাখার কারন জানতে চাইলে এ বিষয় আনিস কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেনি।
ভুক্তভোগী সিরিয়া বলেন-"আমি নিঃসন্তান বিধবা আমার স্বামীর ব্যাংকে রাখা টাকা আমার স্বাক্ষর জাল করে আনিস উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছে, বিধবা কার্ডের টাকা আত্মসাৎ করেছে আমি এর জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।"
কালের সমাজ/কে.পি

