ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ধুঁকছে মহম্মদপুরের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ

হাসনাত হান্নান তামিম, মহম্মদপুর (মাগুরা) | আগস্ট ২৪, ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম ধুঁকছে মহম্মদপুরের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ

মাগুরার মহম্মদপুরে ওষুধ, পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী ও জনবল সংকটে কার্যত ধুঁকছে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কার্যক্রম। দীর্ঘ প্রায় তিন বছর ধরে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী সরবরাহ না থাকায় উপজেলার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র এবং পাঁচটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সেবা নিতে আসা মানুষকে অনেক ক্ষেত্রেই খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে দীর্ঘদিনের জনবল সংকট। ফলে মাঠপর্যায়ের স্বাভাবিক সেবাও ব্যাহত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মহম্মদপুর উপজেলার ওমেদপুরে একটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া নহাটা, বাবুখালী, পলাশবাড়ীয়া, বালিদিয়া ও রাজাপুর ইউনিয়নে রয়েছে পাঁচটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ পরিবার পরিকল্পনা ও মাতৃস্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকেন। তবে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের তুলনায় জনবল পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। মাঠপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ৬২টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২৯ জন। দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে ৩৩টি পদ।
উপজেলা সদরের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে মেডিকেল অফিসারের একটি পদ প্রায় দুই বছর ধরে শূন্য। মাঠকর্মী বা এফ.ডব্লিউ.এ’-এর ৪১টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ২২ জন; শূন্য রয়েছে ১৯টি। পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার (এফ.ডব্লিউ.ভি) নয়টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন পাঁচজন, শূন্য চারটি। আর উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের (এস.এ.সি.এম.ও) পাঁচটি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন; শূন্য চারটি পদ।
সবচেয়ে নাজুক অবস্থা উপজেলার ওমেদপুর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের। সাতটি পদের মধ্যে ছয়টিই শূন্য। সেখানে একজন মেডিকেল অফিসার, একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট ও চারজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার পদ থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র একজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা।
জনবল সংকটের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রীর সরবরাহ না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওমেদপুর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রসহ নহাটা, বাবুখালী, পলাশবাড়ীয়া, বালিদিয়া এবং রাজাপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে জন্মনিরোধক ইনজেকশন ছাড়া নিয়মিতভাবে আর কোনো প্রকার ওষুধ বা পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী দেয়া হচ্ছে না। সংকটের মধ্যেও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে নরমাল ডেলিভারি সেবার ক্ষেত্রে মাগুরার মধ্যে মহম্মদপুর এগিয়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘ প্রায় তিন বছর ধরে এসব কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রীর সরবরাহ নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে সরকারি এসব কেন্দ্রে সেবা নিতে এসে প্রয়োজনীয় ওষুধ আর সামগ্রী না পেয়ে অনেককেই হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। এতে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের মাঠপর্যায়ের উদ্দেশ্যও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মাঠকর্মী বলেন, “সংকটের কারণে অনেক সময় রোগীকে শুধু পরামর্শ দিয়েই ফিরিয়ে দিতে হয়।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের মূল ভিত্তি মাঠপর্যায়ের কর্মী ও নিয়মিত সামগ্রী সরবরাহ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় জনবল, ওষুধ ও উপকরণের ঘাটতি থাকায় সেবার মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
দীর্ঘদিনের এই সংকট দ্রুত সমাধান না হলে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার, বিশেষ করে পরিবার পরিকল্পনা ও মাতৃস্বাস্থ্যসেবার ওপর নির্ভরশীল মানুষের ভোগান্তি আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
মহম্মদপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আহম্মেদ শরীফ বলেন, “সংকটের মধ্যেও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে নরমাল ডেলিভারি সেবার ক্ষেত্রে মাগুরার মধ্যে মহম্মদপুর এগিয়ে রয়েছে। জনবল নিয়োগ, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও উপকরণ সামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত হলে কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে নেয়া সহজ হবে।”
 

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!