রায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিন কিলোমিটার সড়ক চার বছর না যেতেই বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, ভেঙে যাওয়া ঢালাই এবং বেরিয়ে পড়া রডের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন অংশে পানি জমে সৃষ্টি হচ্ছে দুর্ভোগ। যানবাহন চলাচলের সময় গর্তে পড়ে বিকল হয়ে যাচ্ছে গাড়ি। কোথাও কোথাও উল্টে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানিয়েছেন চালকরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নির্মাণকাজে অনিয়মের কারণেই অল্প সময়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সড়ক এত অল্প সময়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এর নির্মাণ কাজের মান ও ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।রূপগঞ্জ উপজেলার রূপসী-কাঞ্চন সড়কের গন্ধর্বপুর বড় বাড়ি থেকে কর্ণগোপ হয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কটি শিল্পাঞ্চল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। সড়কের দুই পাশে রয়েছে ছোট-বড় বেশ কয়েকটি শিল্পকারখানা। প্রতিদিন এ পথে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি নির্মাণে কয়েক দফায় অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। ২০২০-২১ অর্থবছরে তারাবো পৌরসভা থেকে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে উপজেলা এলজিইডি থেকে বরাদ্দ দেয়া হয় ২ কোটি ৯০ লাখ ৬০ হাজার টাকা। পরবর্তী সময়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরে উপজেলা এলজিইডি থেকে আরো প্রায় ৬ কোটি ৯২ হাজার টাকা এবং একই অর্থবছরে তারাবো পৌরসভা থেকে আরো ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। চার দফায় প্রায় ২০ কোটি টাকা বরাদ্দের পর উপজেলা এলজিইডি ও তারাবো পৌরসভার উদ্যোগে গন্ধর্বপুর বড় বাড়ি থেকে কর্ণগোপ পর্যন্ত প্রায় ২৪ ফুট প্রশস্ত সিসি ও আরসিসি সড়ক নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের কয়েক বছর না যেতেই সড়কের বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন।সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও ঢালাই উঠে গিয়ে রড বেরিয়ে পড়েছে। আবার কিছু অংশ ভেঙে পাশের নিচু জায়গা ও পুকুরের ঢালে চলে গেছে। সড়কের ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ভাঙা কংক্রিটের অংশ। যানবাহনের চাকার চাপে এসব ভাঙা অংশ আরো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণের সময় যথাযথ মান বজায় রাখা হয়নি। এছাড়া পানি নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষাকালে সড়কের ওপর পানি জমে থাকে। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকার কারণে সড়কের নিচের অংশ দুর্বল হয়ে ভাঙন ত্বরান্বিত হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
সড়কটি নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের পাশাপাশি সংস্কারের দায়িত্ব নিয়েও দেখা দিয়েছে এলজিইডি ও তারাবো পৌরসভার মধ্যে মতপার্থক্য। স্থানীয়দের ভাষ্য, এলজিইডির কাছে গেলে তারা বলছে সড়কের কিছু অংশ পৌরসভা করেছে, তাই ওই অংশের সংস্কারের দায়িত্ব পৌরসভার। অন্যদিকে পৌরসভার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মূল সড়কটি এলজিইডির আওতাধীন এবং পৌরসভা পরবর্তী সময়ে সড়কের কিছু অংশ নির্মাণ করেছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকাজ না হওয়ায় জনদুর্ভোগ আরো বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তারাবো পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন বাংলাবাজার পত্রিকাকে বলেন, গন্ধর্বপুর বড় বাড়ি থেকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক পর্যন্ত সড়কটি এলজিইডির আইটিভুক্ত সড়ক হলেও এর কিছু অংশ পৌরসভা থেকে করা হয়েছে। বর্তমানে সড়কের প্রায় ৪০ শতাংশ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব অংশ দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন।
রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আক্তার হোসেন বাংলাবাজার পত্রিকাকে বলেন, গন্ধর্বপুর থেকে এক কিলোমিটার পর্যন্ত অংশ জি-ডিভি ফোর প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৯-২০ অর্থবছরে সম্পন্ন করা হয়। সড়কের কিছু অংশ পৌরসভাও করেছে। যেহেতু সড়কের বাকি অংশ পৌর এলাকার মধ্যে পড়েছে, তাই সেটি পৌরসভা থেকে করা হবে। তারাবো পৌরসভার প্রশাসক সাইফুল ইসলাম জয় কালের সমাজ পত্রিকাকে বলেন, গন্ধর্বপুর বড় বাড়ি থেকে কর্ণগোপ সড়কটি বর্তমানে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। এটি তারাবো পৌরসভার ভেতরে পড়লেও সড়কটি সংস্কারের জন্য বর্তমানে পৌরসভার পর্যাপ্ত অর্থ নেই। তাই এলজিইডির কাছে লিখিতভাবে অনুরোধ করা হবে, যাতে তারা দ্রুত সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করে।
কালের সমাজ/কে.পি

