ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
আমন আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তা

সার সংকটে বিপাকে মহম্মদপুরে কৃষক

হাসনাত হান্নান তামিম, মহম্মদপুর (মাগুরা) | আগস্ট ৩০, ২০২৬, ০৬:২১ পিএম সার সংকটে বিপাকে মহম্মদপুরে কৃষক

আকাশে মেঘের ঘনঘটা, আর মাঠে মাঠে কচি রোপা আমনের সবুজ পাতার মৃদু দোলা। কোথাও কোথাও এখনো চলছে আমন ধানের চারা রোপণ। বুকভরা আশা নিয়ে মাঠে মাঠে ঘাম ঝরাচ্ছেন কৃষক। মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার কৃষকদের চোখে-মুখে এই সময়ে থাকার কথা ছিল সোনালী স্বপ্নের ঝিলিক। কিন্তু সেই সবুজ সম্ভাবনার ক্যানভাসে এখন ফুটে উঠেছে গভীর দুশ্চিন্তা, হতাশা আর বিষাদের ছায়া। ভরা আমন মৌসুমে চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার হাজারো ঘামঝরা কৃষক।
 

উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে মহম্মদপুর উপজেলার আট ইউনিয়নে ১২ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকরা বুকভরা আশা নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু ধানের চারা যখন বাড়ন্ত এই চরম মুহূর্তে সার সংকটে কৃষকের সেই আশা এখন হতাশায় রূপ নিচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে ‘ডিএপি’ (উঅচ), ‘এমওপি’ (গঙচ) ও ‘টিএসপি’ (ঞঝচ) সারের সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ‘ডিএপি’ সারের সংকট বেশি বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। সরকারি বরাদ্দ ও গুদামে পর্যাপ্ত মজুদের কথা বলা হলেও বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো। উপজেলা সদরের জেলখানা পাড়া এলাকার প্রান্তিক কৃষক শাহাজন মিয়ার কণ্ঠে ঝরে পড়ল সেই আকুলতা ও ক্ষোভ “ডিলারের কাছে গিয়ে আকুতি জানালেও বলে ডিএপি সার নেই। ২০ কেজি সারের খুব দরকার ছিল, অথচ অনেক ধর্ণা দিয়ে পেলাম মাত্র ১০ কেজি। এই সামান্য সারে কি আমার স্বপ্নের ক্ষেত বাঁচবে?”
 

অভিযোগ রয়েছে, এই সংকটের সুযোগ নিয়ে কোনো কোনো অসাধু খুচরা সার ব্যবসায়ী নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। মহম্মদপুর সদর বাজারের সার ডিলার মেসার্স সুমন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. বদরুল হাসান অপু সংকট স্বীকার করে বলেন, “বর্তমানে ডিএপি সারের কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। তবে আশা করছি দুই-চার দিনের মধ্যেই নতুন চালানের সার ঢুকবে, তখন সংকট কেটে যাবে।” অন্য দিকে নহাটা বাজারের ব্লু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী চন্দন শিকদার বলেন, “মাগুরা বিএডিসির গুদামে সার মজুদ থাকলেও তিন দিন ধরে ধর্ণা দিয়েও সার পাচ্ছি না। ফলে কৃষকদের চাহিদা মেটাতে আমরাও চরম বিপাকে পড়েছি।” মহম্মদপুর উপজেলা কৃষি অফিসার ইসরাত জাহান শিলু বলেন, “আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। কৃষকরা যেন ন্যায্যমূল্যে সার পান তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। ডিএপি সারের সাময়িক সংকটের কথা শুনেছি, দুই-তিন দিনের মধ্যে নতুন সার চলে এলে পরিস্থিতি একদম স্বাভাবিক হয়ে যাবে।” কর্মকর্তাদের এই আশ্বাসে সাময়িক সান্ত্বনা মিললেও কৃষকদের মনের ভয় কাটছে না। সময়মতো সার দিতে না পারলে যে হাড়ভাঙা খাটুনির ফসল মাঠেই নষ্ট হয়ে যাবে; সেই আশঙ্কায় প্রতিটি মুহূর্তে বুক কাঁপছে মহম্মদপুরের আমন চাষিদের।

কালের সমাজ/কেপি

Link copied!