ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩

ঈদগাঁওয়ে স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ উচ্ছেদ অভিযান: দখলমুক্ত হচ্ছে সড়ক, ফিরছে

কালের সমাজ ডেস্ক | সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম ঈদগাঁওয়ে স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ উচ্ছেদ অভিযান: দখলমুক্ত হচ্ছে সড়ক, ফিরছে

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযানকে স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ অভিযান হিসেবে অভিহিত করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিনের অবৈধ দখল ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই সাহসী ও কার্যকর উদ্যোগে বদলে যেতে শুরু করেছে ঈদগাঁও উপশহরের চিত্র। দখলমুক্ত হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসাধারণের চলাচলের স্থান, ফিরছে স্বস্তি, সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ঈদগাঁও বাজারের গুরুত্বপূর্ণ ডিসি সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাংচিংনু মার্মার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল জাহান চৌধুরী, জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর তাজ জনি এবং ঈদগাঁও থানার পুলিশ সদস্যরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ফুটপাত ও জনসাধারণের চলাচলের বিভিন্ন স্থান অবৈধভাবে দখল হয়ে থাকায় সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। বিশেষ করে যানজট, পথচারীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা এবং অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনার কারণে ঈদগাঁও উপশহরের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছিল। তবে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এলাকাবাসীর মতে, দীর্ঘদিন পর প্রশাসনের এমন ব্যাপক ও কার্যকর উদ্যোগ ঈদগাঁওবাসীর মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

 ঈদগাঁও উপজেলার সাংস্কৃতিক কর্মী ও শিল্পী কুতুব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে ঈদগাঁওয়ে এ ধরনের এত বড় ও কার্যকর উচ্ছেদ অভিযান আমি দেখিনি। এটি সত্যিই স্মরণকালের একটি শ্রেষ্ঠ অভিযান।” তিনি আরও বলেন, ঈদগাঁও উপশহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। একটি দখলমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর ঈদগাঁও গড়ে তুলতে এলাকার সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাংচিংনু মার্মার নেতৃত্বে পরিচালিত এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে উপজেলা প্রশাসনের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের প্রত্যাশা, এ অভিযান যেন শুধু একদিনের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না থাকে। নিয়মিত তদারকি এবং প্রশাসনিক কঠোরতার মাধ্যমে ঈদগাঁওকে স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত, যানজটমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক উপশহর হিসেবে গড়ে তোলা হোক। এলাকাবাসীর একটাই দাবি—স্মরণকালের এই সফল উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকুক; বদলে যাক ঈদগাঁওয়ের চিরচেনা চিত্র, গড়ে উঠুক একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও বাসযোগ্য ঈদগাঁও।

কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!