ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে বড় সুখবর

নিজস্ব প্রতিবেদক | সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে বড় সুখবর

বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর আগেই জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর। এর ফলে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি) এবং জাতীয় লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার (এনএলডিসি) পরিচালনার দায়িত্বে থাকা জিই ভার্নোভার মধ্যে চুক্তিটি সম্পন্ন হয়।

চুক্তির আওতায় রূপপুরের ইউনিট-১ ও ইউনিট-২-এর আটটি সঞ্চালন লাইন এবং ৪০০ কেভি ও ২৩০ কেভি জিআইএস সাবস্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সংকেত এনএলডিসির এসসিএডিএ/ইএমএস ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

এই প্রযুক্তিগত সংযোগের ফলে রূপপুরের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় তথ্য জাতীয় গ্রিডের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় সরাসরি পাওয়া যাবে। ফলে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে কেন্দ্রটির সঞ্চালন-সংক্রান্ত তথ্য实时 পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে।

চুক্তিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রকল্প পরিচালক ড. কবির হোসেন। জিই ভার্নোভার পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি দেবেশ ঝা চুক্তিতে সই করেন।


ড. কবির হোসেন বলেন, রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন-সংক্রান্ত তথ্য নির্ভরযোগ্যভাবে সরবরাহের ক্ষেত্রে এই চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি অর্জন। কেন্দ্রটির কমিশনিং এবং পরবর্তী বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনাতেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।

রূপপুরের উপ-প্রকল্প পরিচালক ড. মো. খালেকুজ্জামান জানান, এনএলডিসির এসসিএডিএ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ফলে কেন্দ্র ও জাতীয় গ্রিডের মধ্যে রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব হবে। পাশাপাশি সমন্বিত পরিচালনা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতেও এটি সহায়ক হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার অধিকাংশ শেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি পর্বে রয়েছে রূপপুর। গত ২৮ এপ্রিল ইউনিট-১-এর জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হওয়ার পর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। বর্তমানে বি-২ কমিশনিং লাইসেন্স ও নিরাপত্তা ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে কেন্দ্রটি।

এসব অনুমোদন পাওয়ার পর চেইন রিঅ্যাকশন শুরু হবে। এরপর ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বাণিজ্যিক উৎপাদনের দিকে।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) প্রধান প্রকৌশলী ও স্কিম ডিরেক্টর মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, দেশের চালু থাকা সব বিদ্যুৎকেন্দ্রই জিই ভার্নোভার এসসিএডিএ/ইএমএস ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের সঙ্গে সংযুক্ত।

তিনি জানান, কেন্দ্রীয় এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সামগ্রিক পরিস্থিতি এক স্থান থেকে পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর আগেই রূপপুরকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার ফলে কেন্দ্রটি জাতীয় গ্রিড ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত হলো।

বর্তমানে রূপপুরের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং-পরবর্তী বিভিন্ন পরীক্ষা চলছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কেন্দ্রটি চালুর প্রস্তুতিতে এসসিএডিএ সিস্টেমের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

কালের সমাজ/কে.পি

 

Link copied!