শরীয়তপুর সদরে সড়ক অবরোধ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মিছিল করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ মিছিল বের করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। মিছিলের একটি ছবি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিতে দেখা যায়, অর্ধশতাধিক মানুষের একটি দল সড়কের ওপর অবস্থান নিয়ে ব্যানার হাতে মিছিল করছে। সামনে একটি বড় ব্যানার রয়েছে, যাতে কয়েকজন ব্যক্তির ছবি এবং ‘বিক্ষোভ মিছিল’ লেখা দেখা যায়। মিছিলের একপর্যায়ে সড়কে মানুষের অবস্থানের কারণে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার দৃশ্যও ছবিতে ফুটে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই এ মিছিল বের করেছেন। তবে ছবিতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তারা ছাত্রলীগের কোন পর্যায়ের নেতা-কর্মী এ বিষয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নিষেধাজ্ঞার পরও প্রকাশ্যে মিছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকার মধ্যেই প্রকাশ্যে এমন মিছিলের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার আওতায় আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভা, সমাবেশ, মিছিল, প্রচারণাসহ সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। ফলে শরিয়তপুর প্রকাশ্যে মিছিল হয়ে থাকলে সেটি কীভাবে সম্ভব হলো এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না এখন সেটিই মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রশাসনের ‘নজরদারি’ নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয়দের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, দিনের বেলায় একটি আঞ্চলিক সড়কে এত মানুষের উপস্থিতিতে মিছিল ও সড়ক অবরোধের ঘটনা প্রশাসনের নজরে এলো না কেন? মিছিলটি যদি পূর্বপরিকল্পিত হয়ে থাকে, তাহলে গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। আর যদি প্রশাসন ঘটনাটি জানার পরও কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে থাকে, তাহলে নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রকাশ্য কর্মসূচি ঠেকাতে তাদের ভূমিকা কী ছিল তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, সাধারণ মানুষ আইন মেনে চললেও নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো কর্মসূচি প্রকাশ্যে হলে সেটি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও কৌতূহল তৈরি হয়। প্রশাসন এ বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেবে এটাই তাদের প্রত্যাশা।
বিএনপি ও অন্যান্য দলের নীরবতা নিয়েও আলোচনা
এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিবাদ বা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের নীরবতার কারণ সম্পর্কেও নিশ্চিতভাবে কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না। স্থানীয়দের প্রশ্ন একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রকাশ্য মিছিল যদি সত্যিই হয়ে থাকে, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান অবস্থান কেন দেখা গেল না?
ছবিতে মিলল মিছিলের দৃশ্য
ঘটনার সময় ধারণ করা ছবিতে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন ব্যক্তি একটি বড় ব্যানার সামনে রেখে সড়কে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করছেন। ব্যানারে একাধিক ব্যক্তির ছবি রয়েছে এবং মাঝামাঝি অংশে লাল অক্ষরে ‘বিক্ষোভ মিছিল’ লেখা দেখা যায়। মিছিলকারীদের একজনের হাতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাও রয়েছে। ছবিতে মিছিলকারীদের পেছনে স্থানীয় সড়ক, গাছপালা ও বসতবাড়ির দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। এতে বোঝা যায়, এটি কোনো আবদ্ধ মাঠে নয়, বরং সড়কের ওপর অনুষ্ঠিত একটি মিছিল।
তদন্ত ও প্রশাসনের বক্তব্য প্রয়োজন
ঘটনাটি নিয়ে শরিয়তপুর পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। বিশেষ করে
মিছিলটি কারা আয়োজন করেছিল;
মিছিলে কতজন অংশ নিয়েছিল;
তারা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী কি না; মিছিলের জন্য কোনো অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না; কতক্ষণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে; ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত ছিল কি না; মিছিলকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পরিষ্কার নয়।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইন সবার ক্ষেত্রে সমভাবে প্রয়োগ করা হবে। নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম ঠেকানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করাও প্রশাসনের দায়িত্ব। এদিকে শরীয়তপুরে সাম্প্রতিক সময়েও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের প্রকাশ্য মিছিল নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ফলে শরিয়তপুরের সদরে ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা কি না, নাকি জেলার বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের কর্মসূচি হচ্ছে সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
কালের সমাজ/কে.পি

